ঢাকা, বাংলাদেশ

নতুন এমপিদের বরণে প্রস্তুত হচ্ছে সংসদ ভবন

প্রকাশিত :

নিজস্ব প্রতিবেদক : গণ-অভ্যুত্থানের দেড় বছর পর নতুন সরকার ও সংসদ পেতে যাচ্ছে দেশ। নতুন এমপিদের বরণ করে নিতে প্রস্তুত হচ্ছে জাতীয় সংসদ ভবনও। আগামীকাল মঙ্গলবারের (১৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন মন্ত্রীসভা ও সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে সংসদ ভবনকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে সেখানে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আগাীকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। শপথবাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। এরপর সংসদ ভবনের নবম তলায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল হিসেবে বিএনপির সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করবেন শপথ নেওয়া সদস্যরা। পরে সংসদীয় দলের নেতা রাষ্ট্রপতির কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থা লাভের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন। রাষ্ট্রপতি তখন তাকে নিয়মানুযায়ী প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ দেবেন এবং নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের আহ্বান জানাবেন।


এরপর মঙ্গলবার বিকেল চারটায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার শপথ হবে। নিয়মানুযায়ী, বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মন্ত্রিসভার শপথ পড়াবেন।

সরেজমিনে আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে সংসদ ভবন এলাকা ঘুরে দুই শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির নানা আয়োজন দেখা গেছে। তবে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকায় ভেতরে প্রবেশের অনুমতি মেলেনি কারোরই। পুরো সংসদ ভবন এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। সবগুলো প্রবেশ গেটে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। মূল প্রবেশ গেটটি বন্ধ রয়েছে। ফটকে দায়িত্ব পালন করছেন আনসার ও পুলিশ সদস্যরা। প্রধান সড়ক থেকে সংসদের মূল ভবনের সামনে লোকজনকে কাজ করতে দেখা গেছে।

সরেজমিনে আরও দেখা যায়, শপথ গ্রহণকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদ ভবন ধোয়া-মোছার কাজ চলছে। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও শপথ গ্রহণ কক্ষে শপথ অনুষ্ঠানসহ অধিবেশনের প্রস্তুতির কাজ চলছে। ভবনের অভ্যন্তরে ধোয়া-মোছার কাজ চলছে এবং সবকিছু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। সংসদের বাইরে সদস্যদের বরাদ্দ করা কক্ষগুলো সাজানোর কাজও চলছে।

২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের গণ-অভ্যুত্থানের দিন গণভবনের পাশাপাশি জাতীয় সংসদ ভবনেও ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। সংসদ ভবন সূত্র জানিয়েছে, গণ-অভ্যুত্থানের সময় যেসব অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সেগুলো মেরামত করা হচ্ছে। নির্বাচনের দুদিন পর শনিবার থেকে সেখানে শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংসদ সচিবালয়।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা সাংবাদিকদের বলেন, মঙ্গলবার সকালে সংসদ সদস্যদের এবং বিকেলে নতুন সরকারের শপথের সব রকমের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

সংসদ ভবন এলাকা ঘুরে আরও দেখা গেছে, সেখানকার পরিস্থিতি এখনও সাধারণ দিনের মতোই স্বাভাবিক রয়েছে। সংসদ ভবনের সামনে আগের মতোই রয়েছে নানা দোকান। সড়কও রয়েছে স্বাভাবিক। চলছে নানা যানবাহন।

সংবিধান অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ নেওয়ার বিধান রয়েছে। শুক্রবার রাতে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টিতে জয়ীদের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে তাদের এক সময়ের মিত্র জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোট ৭৭টি আসন পেয়ে বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে। অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বাকি আসনগুলোতে জয়ী হয়েছেন।

যুগশঙ্খ