ঢাকা, বাংলাদেশ

জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি

প্রকাশিত :

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করেছে সরকার। নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী ডিজেল প্রতি লিটারে ১৫ টাকা বেড়ে ১১৫ টাকা, পেট্রল ১৯ টাকা বেড়ে ১৩৫ টাকা ও প্রতি লিটারে ২০ টাকা বেড়ে অকটেন ১৪০ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন এই দাম ঘোষণা করে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। রোববার থেকেই নতুন দর কার্যকর হবে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রয়মূল্য ডিজেল প্রতি লিটার ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রল ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকা পুনর্নির্ধারণ করা হলো; যা ১৯ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে।

এর আগে আমদানি ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং সরবরাহ সংকটের মধ্যেও এপ্রিল মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।


জ্বালানি বিভাগ থেকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যানকে পাঠানো অফিস আদেশে জানানো হয়, ভোক্তা পর্যায়ে ডিজেলের বর্তমান মূল্য প্রতি লিটার ১০০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা, পেট্রল ১১৬ টাকা ও কেরোসিন ১১২ টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ১ এপ্রিল থেকে এই মূল্য কার্যকর হয়।

জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, গত ফেব্রুয়ারির আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের গড় দরের তুলনায় ১-২৯ মার্চ সময়ে দাম ৯৮ শতাংশ বেড়েছে, অকটেনের বেড়েছে ২৬ শতাংশ। সরকার জনগণের স্বার্থে উল্লেখযোগ্য ভর্তুকি দিচ্ছে। এই দুটি জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রে মার্চ-জুন প্রান্তিকে মোট ভর্তুকির প্রয়োজন হবে ডিজেলের ক্ষেত্রে ১৫ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা ও অকটেনের ক্ষেত্রে ৬৩৬ কোটি টাকা, মোট ১৬ হাজার ৪৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া পেট্রোবাংলার মাধ্যমে এলএনজি আমদানির জন্য এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ১৫ হাজার ৭৭ কোটি টাকা ভর্তুকির প্রয়োজন হবে।

দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় ডিজেল। বিশেষ করে পরিবহন, কৃষি ও জাহাজ চলাচলে এর ব্যবহার বেশি। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে ক্রুড অয়েল আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিশোধিত জ্বালানি তেলের আমদানি বাড়িয়েছে সরকার। এতে বাড়তি দামে তেল কিনতে গিয়ে বিপুল পরিমাণের ভর্তুকির কথা জানায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম গত ২৭ মার্চ জানান, জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সরকার প্রতিদিন জ্বালানি তেলে ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। এ হিসাব ধরলে মাসে জ্বালানি তেলে বর্তমানে ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি ভর্তুকি লাগছে।

জ্বালানি বিভাগের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকির কথা তুলে ধরা হচ্ছে। এর মধ্যে ৯ এপ্রিল জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানান, বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খাতে সরকারকে প্রতি মাসে আড়াই হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। দেশের নাগরিকদের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে সরকার জ্বালানি সরবরাহ ঠিক রাখতেই এ ভর্তুকি চালিয়ে যাচ্ছে।

এর আগে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ে গত ফেব্রুয়ারিতে। মার্চে দাম সমন্বয় করা হলেও তাতে ডিজেল, অকটেন, পেট্রল ও কেরোসিনের দাম বাড়ায়নি সরকার। বরং ফেব্রুয়ারির দাম অপরিবর্তিত রেখেছিল।

যুগশঙ্খ