ঢাকা, বাংলাদেশ

১ ফেব্রুয়ারি থেকে সব টেক্সটাইল মিল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা

প্রকাশিত :

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভারত থেকে কটন সুতা আমদানিতে বন্ড–সুবিধা বাতিল বা শুল্কারোপ করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ চলতি মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন করা না হলে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সকল স্পিনিং মিল অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে বিটিএম'র কারওয়ান বাজার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল।


তিনি বলেন, দেশের টেক্সটাইল, আরএনজি ও এক্সেসরিজ খাত বর্তমানে এক গভীর জাতীয় সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রায় ২২–২৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে ব্যাংক খাতের নন-পারফর্মিং লোন (এনপিএল), কর্মসংস্থান ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে।

এখন যদি সরকারের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা না হয় তাহলে কোনো শ্রমিক অসন্তোষ তৈরি হলে এর দায়-দায়িত্ব সরকারের ওপরে পড়বে। ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কোনো দায়-দেনা পরবর্তীতে আর আমাদের পক্ষে পরিশোধ করা সম্ভব হবে না। এর ফলে ব্যাংক এবং আর্থিক খাতের বিপর্যয়ের সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব সরকারকে বহন করতে হবে। সম্প্রতি ক্রিকেট খেলার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়ে সরকারের মধ্যে যে দেশপ্রেম আমরা অবলোকন করেছি তার বিন্দুমাত্র প্রতিফলন দেশীয় টেক্সটাইল শিল্প রক্ষায় দেখছি না। এর কারণ আমাদের কাছে বোধগম্য নয়। এর পেছনে অন্য কোনো বৃহৎ ষড়যন্ত্র কাজ করছে কি না তা খতিয়ে দেখা দরকার।

এসময় তিনি বলেন, আমরা তিনটা দাবি সরকারকে জানাচ্ছি। তা হল— সুতার ওপর অন্তত ১০ শতাংশ ইনসেন্টিভ বা প্রণোদনা দিতে হবে। সেফগার্ড ডিউটি দিতে হবে এবং কেস-টু-কেস ভিত্তিতে দ্রুত নীতিগত সহায়তা করতে হবে।

তিনি বলেন, টেক্সটাইল, আরএনজি ও এক্সেসরিজ খাত পরস্পরের পরিপূরক এবং দেশের রফতানির প্রায় ৮৫ শতাংশ এই খাত থেকেই আসে। অথচ বর্তমানে ৫০টির বেশি মিল বন্ধ হয়ে গেছে, বাকিগুলো চলছে অর্ধেক বা তারও কম সক্ষমতায়।

বিটিএমএ সভাপতি আরো বলেন, আমাদের খাত জিডিপির ১৩ শতাংশ অবদান অথচ সরকার আমাদের ১৩ মিনিট সময় দেয় না। সরকার বলে, আমরাই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। অথচ আমাদের জন্য সময় নাই। তাহলে কীভাবে দেশ অগ্রসর হচ্ছে। প্রশ্নগুলা সরকারের কাছে।

যুগশঙ্খ