গণভোট ফলাফল ও সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ
নিজস্ব প্রতিবেদক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণভোটের ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। একইসঙ্গে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেটও প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৭ আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের সরকারি ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করে ইসি। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী চট্টগ্রামের দুটি আসনের ফলাফল পরে দেয়া হবে। আর জামায়াতের প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে আগেই।
এদিকে, গেজেট প্রকাশ হওয়ায় দ্রুতই নব নির্বাচিতদের শপথ পড়ানোর উদ্যোগ নিবে সরকার। সামনে রোজা থাকায় দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া হবে। এর আগে ৫ ফেব্রুয়ারি স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে নতুন সংসদ সদস্যদের 'রাষ্ট্রপতি মনোনীত ব্যক্তি' দ্বারা শপথ পড়ানোর কথা বলেছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। যদিও সংবিধান মোতাবেক, নির্বাচিত হওয়ার তিন দিনের মধ্যে কেউ শপথ না পড়ালে সেক্ষেত্রে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পড়াতে পারবেন।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) উৎসবমুখর পরিবেশে সারাদেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে চলে ভোটগ্রহণ। সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি এদিন দেশজুড়ে গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এবার গণভোট ও সংসদ নির্বাচনে ভোটের হার ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এর আগের ১২টি সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছিল ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর আয়োজিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। আর সবচেয়ে কম ভোট পড়েছিল ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি আয়োজিত বাংলাদেশের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। এই দুই নির্বাচনে ভোট পড়েছিল যথাক্রমে ৮৭ দশমিক ১৩ শতাংশ এবং ৪৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
গণভোটে চার কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন ‘হ্যাঁ’ এবং ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার জন ‘না’ ভোট দিয়েছেন বলে জানায় নির্বাচন কমিশন।
১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট গ্রহণ হয়। গতকাল শুক্রবার ২৯৭ আসনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেছে ইসি। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকায় চট্টগ্রাম–২ ও ৪ আসনের ফলাফলের গেজেট এখন জারি করা হয়নি।
নির্বাচনে ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টিতে জয় পেয়েছে। ফল ঘোষণা স্থগিত থাকা দুটি আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। তাঁদের শরিকেরা পেয়েছে তিনটি আসন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্য শরিকেরা পেয়েছে ৯টি আসন।