চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে সরকার: সংসদে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক : সরকার আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করতে যাচ্ছে। সাতটি ইভেন্টের মাধ্যমে এটি শুরু করা হবে।
আজ রোববার (২৯ মার্চ) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য জহিরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা সাতটি ইভেন্টের মাধ্যমে শুরু করব এবং পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ইভেন্ট অন্তর্ভুক্ত করে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলাকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমে ছেলেমেয়েদের ডিভাইসের আসক্তি থেকে সরিয়ে খেলার মাঠে রাখতে চাই।’
বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় থেকে ক্রিকেট বোর্ডসহ দেশের সব ক্রীড়াকে দলীয়করণ ও রাজনীতিকরণ করা হয়েছে। ওই সময় বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে যে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে এনে দলীয়করণমুক্ত ও রাজনীতিমুক্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ চলছে। বিগত সময়ে দলীয়করণের মাধ্যমে যেসব অবৈধ নিয়োগ হয়েছে, তা তদন্তে দ্রুত একটি কমিটি গঠন করা হবে। এই অপকর্মের সঙ্গে কারা জড়িত, তা জাতির সামনে প্রকাশ করা হবে এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অপকর্মে জড়িত বিসিবির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা
আওয়ামী লীগের ক্ষমতার ১৬ বছরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ‘২০০৮ সাল থেকে দলীয় সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমে যেসব অবৈধ নিয়োগ হয়েছে, তা নিয়ে দ্রুত তদন্ত কমিটি করে, এতে কারা কারা জড়িত আছে, তা জাতির সামনে নিয়ে আসব। পাশাপাশি আপনারা শুনে অবাক হবেন, বিগত সময় ভোটের অধিকার হরণ করার জন্য একটি গ্রুপকে সহযোগিতা করতে বিসিবির অর্থ ও জনবল ব্যবহার করা হয়েছে। বোর্ডের যাঁরা এই অপকর্মের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
বগুড়া-৪ আসনের বিএনপিদলীয় সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কাছে সম্পূরক প্রশ্ন করেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমল থেকে অদ্যাবধি মেধাহীন, চিহ্নিত ক্যাডারদের দিয়ে নিয়োগপ্রক্রিয়া বাস্তবায়ন হয়েছিল। ২০১৮ ও ২০২৪ সালের তথাকথিত ভোট ডাকাতির নির্বাচনে ক্রিকেট বোর্ডের কতিপয় কর্মকর্তা ও কর্মচারীর একটা অংশ নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে ক্রিকেট বোর্ডের সম্পত্তি ব্যবহার করে যে অনৈতিক কর্মকাণ্ড করেছে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে কি না?’
জবাবে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে ক্রিকেট বোর্ডসহ সব খেলাধুলাকে দলীয়করণ, রাজনীতিকরণসহ বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনকে স্থবির করে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ক্রীড়াঙ্গনকে নতুন করে দলীয়করণ ও রাজনীতিকরণমুক্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারে কাজ চলছে।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ক্রিকেট বোর্ডের দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীর ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাব নেওয়ার কিছু ইস্যু আমার সামনে পরিলক্ষিত হয়েছে। আমি দুর্নীতি দমন কমিশনের মহাপরিচালকের কাছে আহ্বান রাখব, এ বিষয়ে তাঁদের কাছে কোনো তদন্ত থাকলে আমাদের যেন অবগত করেন। যাতে জাতির সামনে উত্থাপিত হয়।’
এ ছাড়া যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক সরকারদলীয় ও বিরোধীদলীয় কয়েকজন সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে জানান, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার খেলাধুলাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে। সরকার খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করার জন্য কাজ করছে। তবে এই মুহূর্তে সরকার খেলাধুলার অবকাঠামো তৈরির চেয়ে খেলোয়াড় তৈরির দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।