ঢাকা, বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরোক্ষ আলোচনা শুরু, বড় সাফল্যের অপেক্ষায় পাকিস্তান

প্রকাশিত :

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দীর্ঘ ছয় সপ্তাহের ভয়াবহ যুদ্ধের পর অবশেষে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনায় বসেছে চিরবৈরী দুই দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ইসলামাবাদের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় ঘেরা সেরেনা হোটেলে ইতিমধ্যে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বর্তমানে প্রতিনিধি দলগুলো সরাসরি নয়, পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ‘পরোক্ষভাবে’ একে অপরের সঙ্গে কথা বলছে।

কূটনৈতিকদের মতে, গত ছয় সপ্তাহের যুদ্ধের ভয়াবহতা এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান গভীর আস্থার সংকটের কথা চিন্তা করলে এই পরোক্ষ আলোচনার শুরুটিও পাকিস্তানের জন্য এক বিশাল অর্জন। গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে ওয়াশিংটন ও তেহরান একে অপরের থেকে যোজন যোজন দূরে থাকলেও, তাদের আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসা ইসলামাবাদের জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত।

পাকিস্তান সরকার ও মধ্যস্থতাকারীদের মূল লক্ষ্য হলো এই পরোক্ষ আলোচনাকে সরাসরি বা ‘মুখোমুখি’ বৈঠকে রূপান্তর করা। যদি শেষ পর্যন্ত মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের প্রতিনিধি দলের মধ্যে সরাসরি বৈঠক সম্ভব হয়, তবে তা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের জন্য একটি ঐতিহাসিক ও বাস্তবমুখী সাফল্য হিসেবে গণ্য হবে।


কূটনৈতিক মহলে এখন প্রধান আলোচনার বিষয় হলো—এই প্রক্রিয়ায় শেষ পর্যন্ত কী ফলাফল আসে। তবে আপাতত আমরা তিনটি বিষয়ের ওপর বিশেষ নজর রাখতে পারি। প্রথমত, একটি দীর্ঘমেয়াদি বা বর্ধিত যুদ্ধবিরতি ঘোষণা আসবে কি না। দ্বিতীয়ত, কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট চুক্তিতে দুই পক্ষ পৌঁছাতে পারবে কি না। তৃতীয়ত, অন্তত ভবিষ্যতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিশ্রুতি মিলবে কি না।

যদিও পথটি এখনো অনেক বন্ধুর, তবুও ইসলামাবাদের এই তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। বিশ্বের নজর এখন এই পরোক্ষ আলোচনার পরবর্তী ধাপের দিকে।

যুগশঙ্খ