সাড়ে ৫ বছর ক্যাম্পেইন হয়নি, দায় গত সরকারের : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশে বর্তমানে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি ও টিকার সংকট নিয়ে জাতীয় সংসদে বিগত সরকারগুলোর কড়া সমালোচনা করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি জানিয়েছেন, গত সাড়ে ৫ বছরে কোনো হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি না হওয়ায় অনেক শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ফলে এখন তাদের মধ্যে হামের সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে।
জরুরি টিকাদান কর্মসূচির প্রথম দিনেই ৩০টি উপজেলায় ৭৬ হাজার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৭৩ হাজার শিশুকে টিকা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে তিনি জানান, এতে প্রায় ৯৬ শতাংশ সাফল্য অর্জিত হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ৫ এপ্রিল থেকে ১৮টি জেলা ও ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে টিকা দেয়া হচ্ছে। প্রথম ধাপে ১২ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আগামী ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় এ কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর ৩ মে থেকে সারাদেশে বাকি এলাকাগুলোতে টিকাদান কার্যক্রম চালু হবে।
তিনি জানান, টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থায় দীর্ঘসূত্রতার কারণে হামসহ ৬টি গুরুত্বপূর্ণ টিকার মজুতে সংকট তৈরি হয়েছে।
হাসপাতালের প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি জানান, দেশের সব সরকারি হাসপাতালে আইসোলেশন ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশেষ করে রাজশাহীতে আরো ২৫০টি আইসোলেশন শয্যা প্রস্তুত করা হচ্ছে। পাশাপাশি নিবিড় পরিচর্যা সুবিধা ও শ্বাস-প্রশ্বাস সহায়তার ব্যবস্থাও বাড়ানো হয়েছে। স্বল্প খরচে নতুন একটি অক্সিজেন সরবরাহ পদ্ধতি চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে রোগীদের ফুসফুসে অক্সিজেন দেয়া সম্ভব হচ্ছে।
রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন হামের প্রাদুর্ভাব, আইসোলেশন ও নিবিড় পরিচর্যা সুবিধার অভাব এবং অল্প বয়সী শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি সংসদে তুলে ধরেন।
এর জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদার করতে স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ছুটি বাতিল করা হয়েছে। উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সমন্বয়ও বাড়ানো হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, করোনাকালের অব্যয়িত অর্থ দিয়ে অতিরিক্ত টিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যাতে টিকার কোনো সংকট না হয়, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় সতর্ক রয়েছে।