ঢাকা, বাংলাদেশ

তনু হত্যা মামলা: এক দশক পর প্রথম কোনো অভিযুক্ত গ্রেফতার, তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর

প্রকাশিত :

যুগশঙ্খ ডেস্ক : দীর্ঘ ১০ বছর পর সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে গ্রেপ্তার হাফিজুর রহমানকে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোমিনুল হকের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।


২০১৬ সালে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে মামলাটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তদন্তে স্থবিরতা ও জটিলতা বিরাজ করছিল। গত ১০ বছরে চারটি পৃথক সংস্থার অধীনে সাতজন তদন্ত কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করলেও মূল অপরাধী শনাক্তে অগ্রগতি ছিল অত্যন্ত ধীরগতির। মামলার শুনানির জন্য এ পর্যন্ত অন্তত ৮০টি ধার্য তারিখ পার হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় ভুক্তভোগী পরিবার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা বাড়ছিল।


তবে সম্প্রতি তদন্তে নতুন গতি আসে। চলতি মাসের ৬ এপ্রিল মামলার সপ্তম তদন্ত কর্মকর্তা আদালতের কাছে তিন সন্দেহভাজন সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান এবং সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ ও ক্রস ম্যাচের অনুমতি চান। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করার পরই তদন্ত কার্যক্রমে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়। এর ধারাবাহিকতায় হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পরদিন আজ বিকেল ৫টার দিকে তনুর মা-বাবা ও ছোট ভাই রুবেল হোসেন কুমিল্লা আদালতে উপস্থিত হন। দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের আশায় বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে বেড়ানো পরিবারটির সদস্যদের এদিন আবেগাপ্লুত দেখা যায়।

তনুর ভাই রুবেল হোসেন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেও কোনো সমাধান পাচ্ছিলাম না। এখন নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং একজন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। এতে আমরা আশাবাদী, এবার হয়তো আমরা ন্যায়বিচার পাব।’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, ৬ এপ্রিল তিনজন সন্দেহভাজনের ডিএনএ নমুনা ক্রস ম্যাচের জন্য আদালতের অনুমতি চাওয়া হয়। আদালতের নির্দেশনা পাওয়ার পর তদন্তের অংশ হিসেবে হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আদালতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলাম। আদালত শুনানি শেষে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।’

দীর্ঘদিন পর এই গ্রেপ্তার মামলাটিতে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, সঠিক তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতে অবশেষে বহুল প্রতীক্ষিত এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হতে পারে।

যুগশঙ্খ