গৃহকর্মী নির্যাতন: বিমানের এমডি ও তার স্ত্রী গ্রেফতার
নিজস্ব প্রতিবেদক : শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাফিকুর রহমান ও তাঁর স্ত্রীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার গভীর রাতে রাজধানীর উত্তরার বাসা থেকে গ্রেপ্তারের পর সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) তাদের আদালতে হাজির করা হয়। আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
গৃহকর্মী মোহনার শরীরে পোড়া ক্ষত, সেলাই ও জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। বর্তমানে শিশুটি গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
ভুক্তভোগী শিশু মোহনার পিতা মোস্তফা জানান, প্রায় আট মাস আগে উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে ওই দম্পতির বাসায় মোহনাকে গৃহকর্মী হিসেবে কাজে দিয়েছিলেন। প্রথম কয়েক মাস সব কিছু ঠিক থাকলেও গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) গৃহকর্ত্রী বীথি ফোন দিয়ে মোহনাকে নিয়ে যেতে বলেন। মোস্তফা মেয়েকে আনতে গেলে বীথি তার সঙ্গে কোনও কথা না বলে কৌশলে একটি সাদা কাগজে সই করিয়ে নেন।
মোস্তফা বলেন, “রাতে যখন মেয়েকে আমার হাতে তুলে দেওয়া হয়, ওর অবস্থা দেখে আমি আঁতকে উঠি, কেঁদে ফেলি। পুরো শরীরে আগুনের ছ্যাঁকার চিহ্ন, হাতে গভীর কাটা ও সেলাইয়ের দাগ এবং মুখে গুরুতর আঘাত। শিশুটি এখন স্বাভাবিকভাবে খাবারও খেতে পারছে না।”
এই ঘটনায় গতকাল রাতে ভুক্তভোগীর পিতা মোস্তফা বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে অভিযান চালিয়ে পুলিশ বিমানের এমডি শফিকুর রহমান, তার স্ত্রী বীথি এবং তাদের বাসার আরও দুই গৃহকর্মীকে গ্রেফতার করে।
উত্তরা পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী রফিক উদ্দীন জানান, এজাহার দাখিলের পরপরই মামলা রেকর্ড করা হয়েছে এবং সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) আসামিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রুবেল মিয়া নিশ্চিত করেছেন যে গ্রেফতারকৃত শফিকুর রহমান বর্তমানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এমডি হিসেবে কর্মরত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। মোহনার বাবা বলেন, “আমি একজন অসহায় বাবা। আমার মেয়ের ওপর যে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, আমি তার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। আর কোনও শিশুর সঙ্গে এমন ঘটনা যেন না ঘটে।”