বিএনপি জয় লাভ করলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে: তারেক রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপি জয় লাভ করলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে বলে জানিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, সারাদেশে ধানের শীষে জোয়ার দেখে একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। কেউ যদি নির্বাচন বন্ধে ষড়যন্ত্র করে এর দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে বিএনপি জয় লাভ করলে আমাদের অন্যতম কাজ হবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা। মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় অবকাঠানো দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করা হবে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি)) দুপুরে নীলফামারী বড় মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, এবারের নির্বাচন শুধুমাত্র জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের নয়; বরং জাতিকে পুনর্গঠনের নির্বাচন। জনগণের হারিয়ে যাওয়া অধিকার ফিরিয়ে আনার নির্বাচন। আমরা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চাই। এজন্য ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, দিনাজপুর ও পঞ্চগড়কে শিল্পে রূপান্তর করতে চাই। আমাদের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে ধানের শীষে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে হবে। নীলফামারী জেলা কৃষি অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এ জেলাকে আমরা কৃষি অঞ্চলের হাব হিসেবে গড়ে তুলব।
তিনি আরও বলেন, ১৬ বছর স্বৈরাচার শুধু নিজের স্বার্থ দেখেছে। আমরা জনগণের সমর্থন দিয়ে সরকার গঠন করতে চাই। দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে চাই।
নারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, নারীদের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্র করা হবে। কারণ, নারীকে কর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত না করলে দেশ এগিয়ে যাবে না। খালেদা জিয়া বিনামূল্যে নারীদের শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। আমরা নারীদের স্বাবলম্বী করতে চাই। প্রত্যেক নারীর কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষি কার্ড প্রত্যেক কৃষক ভাইদের কাছে পৌঁছাতে চাই। এর মাধ্যমে সহজে ঋণ নেওয়া যাবে। ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করতে চাই। এনজিও থেকে ক্ষুদ্র ঋণ যেসব নেওয়া হয়েছে; সেসব সরকারের হয়ে জনগণের পক্ষ থেকে পরিশোধ করতে চাই।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, ‘সৈয়দপুর-কিশোরগঞ্জ উপজেলাকে শিল্প অঞ্চল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানাসহ যদি ভারী শিল্পকারখানা গড়ে তোলা সম্ভব হয়, আমরা তা গড়ে তুলতে চাই। এই এলাকার মানুষ কৃষিনির্ভর। আমরা কৃষির ওপর নির্ভর থাকতে চাই না। এই এলাকার মানুষের যাতে কর্মসংস্থানের সমস্যা না হয়, এ জন্য আমরা এ অঞ্চলকে শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তুতে চাই। সৈয়দপুরে এয়ারপোর্ট আছে। এই এয়ারপোর্টকে আমরা ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট হিসেবে রূপান্তরিত করতে চাই।’
জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তারেক রমান বলেন, ‘একটি দলকে আমরা খেয়াল করছি, আমাদের সমাজের বিভিন্ন মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে। বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে তারা। আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই, বাংলাদেশের কোনো ভোটারকে যারা ভয় দেখাবে, যারা বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে, ইনশা আল্লাহ কারও সঙ্গে যদি কোনো অন্যায় হয়ে থাকে, আমরা অন্যায়কারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
তারেক রহমান আরও বলেন, এই এলাকা কৃষিনির্ভর। কৃষকদের পাশে যেমন দাঁড়াব, তেমনভাবে এই এলাকায় কৃষিনির্ভর শিল্প বিকশিত করব। যাতে কর্মসংস্থান হয়। যুবকদের ট্রেনিং দিয়ে দক্ষ শ্রমিক করতে চাই। আমরা আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ পুনর্গঠন করতে চাই। এই কাজ করতে হলে জনগণের সহযোগিতা লাগবে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুক। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এসএম সাইফুল্লাহ রুবেল।