ঢাকা, বাংলাদেশ

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূত এবং ভারত ও পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

প্রকাশিত :

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন চীনের রাষ্ট্রদূত এবং ভারত ও পাকিস্তানের হাইকমিশনার।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো এগিয়ে নেয়ার ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এদিকে ঢাকায় পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতের পাশাপাশি পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে বাংলাদেশে নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের টেলিফোনে কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকার পাকিস্তানি হাইকমিশন।


চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষের লক্ষ্যবস্তু নয়—ইয়াও ওয়েন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে গতকাল এক ব্রিফিংয়ে ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘খুব ভালো বৈঠক হয়েছে। বৈঠক একটি হৃদ্যতাপূর্ণ এবং বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমরা চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাস্তবধর্মী এবং গভীর মতবিনিময় করেছি।’


বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নীতি প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আপনারা জানেন আমাদের মুখপাত্র দুটি বিবৃতি দিয়েছেন। আপনারা এ দুটি বিবৃতি উল্লেখ করতে পারেন। আমি জোর দিয়ে বলতে চাই যে বাংলাদেশ বা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক এবং আমাদের সহযোগিতা এ অঞ্চলের মানুষের পুরোপুরি উপকারে আসে এবং এ অঞ্চলের মানুষের দ্বারা সমর্থিত ও সমাদৃত। সুতরাং আমাদের সহযোগিতা কোনো তৃতীয় পক্ষের জন্য লক্ষ্যবস্তু নয় এবং কোনো বিদেশী শক্তির দ্বারা প্রভাবিত হওয়া উচিত নয়। তাই বাংলাদেশ বা দক্ষিণ এশিয়ার যেকোনো দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে ক্ষুণ্ন করার যেকোনো প্রচেষ্টা ব্যর্থ হতে বাধ্য।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারকে সহায়তা করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমরা সবাই জানি, চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক তার বাবা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তার মা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এটি উন্নত ও পরিপক্ব হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আমাদের সহযোগিতার সম্পর্ক একটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে বলে আমরা প্রত্যাশা করছি। চীন সংহতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং জাতীয় সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় বাংলাদেশকে সমর্থন করে। বাংলাদেশের “‍সবার আগে বাংলাদেশ” নীতিকে সমর্থন করে চীন।’

তিস্তা সম্পর্কে আলোচনা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এটা এমন একটা বিষয়, যেটা আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা করছি। চীন প্রস্তুত রয়েছে। আমরা দেখব। আমরা এটি নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে ইচ্ছুক।’

নতুন সরকারের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকারে থাকা বিষয় কোনটি এমন প্রশ্নের জবাবে ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘আমরা সহযোগিতার একটি নতুন উচ্চতা পেতে চাই। ভবিষ্যতের জন্য আমরা বুঝি যে প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পিত নতুন নীতিটি হলো আরো বেশি আত্মনির্ভরশীল মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। তিনি বিশেষ করে বাংলাদেশের জন্য আরো কর্মসংস্থানের সুযোগ, বিনিয়োগ, শিক্ষা ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবার দিকে নজর দিয়েছেন। আমরা পূর্ণভাবে আশা করি চীন এতে সাহায্য করতে পারে।’

বাংলাদেশের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ভারত—প্রণয় ভার্মা: পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে বৈঠক-পরবর্তী ব্রিফিংয়ে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেন, ‘আমরা সব ক্ষেত্রে আমাদের জনকেন্দ্রিক সহযোগিতা শক্তিশালী করতে একটি দূরদর্শী পন্থায় একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা করি। অবশ্যই জনযোগাযোগ আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং আমরা সত্যিই বিষয়গুলোকে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও দূরদর্শী পন্থায় এগিয়ে নেয়ার আশা করি।’

প্রণয় ভার্মা বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আরো এগিয়ে নেয়ার এবং আমাদের বহুমুখী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে শক্তিশালী করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছি। আমরা একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন করার বিষয়ে আমাদের অঙ্গীকারকেও গুরুত্ব দিয়েছি। আজ (রোববার) পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে, আমি আমাদের এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছি যে আমরা বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে যুক্ত হতে আগ্রহী। আমি ব্যক্ত করেছি যে আমরা পারস্পরিক স্বার্থ এবং পারস্পরিক সুফলের ভিত্তিতে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও দূরদর্শী পন্থায় একসঙ্গে কাজ করে সব ক্ষেত্রে আমাদের জনকেন্দ্রিক সহযোগিতা শক্তিশালী করতে চাই।’

ভিসা সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে প্রণয় ভার্মা বলেন, ‘যেমনটি আমি বলেছি, আমরা সব ক্ষেত্রে আমাদের জনকেন্দ্রিক সহযোগিতা শক্তিশালী করতে একটি দূরদর্শী পন্থায় একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা করি। অবশ্যই জনযোগাযোগ আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং আমরা সত্যিই বিষয়গুলোকে ইতিবাচক, গঠনমূলক ও দূরদর্শী পন্থায় এগিয়ে নেয়ার আশা করি।’

নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী পাকিস্তান: পাকিস্তানি হাইকমিশনার ইমরান হায়দার দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরো শক্তিশালী ও সম্প্রসারিত করতে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য তার সরকারের গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। গতকাল পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘পাকিস্তানি হাইকমিশনার ইমরান হায়দার দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরো শক্তিশালী ও সম্প্রসারিত করতে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য তার সরকারের গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।’

বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান উভয় দেশের জনগণের কল্যাণে সহযোগিতার নতুন পথ অন্বেষণ করার সরকারি অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। তিনি দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের সব দেশের জনগণের সুবিধার জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা শক্তিশালী করার বিষয়ে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন।’

যুগশঙ্খ