সংসদে শীর্ষ ২০ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ, ১০টিই এস আলমের
নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় সংসদে দেশের শীর্ষ ২০টি ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এর মধ্যে ১০টি প্রতিষ্ঠানের মালিক বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলম।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সংসদে শীর্ষ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের নাম জানালেও ঋণের পরিমাণ জানানো হয়নি। শীর্ষ খেলাপিদের তালিকায় তিনটি রয়েছে সিকদার গ্রুপের এবং দুটি সালমান এফ রহমানের বেক্সিমকো শিল্প গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠান। বিএনপির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খানের মালিকানাধীন সিটিসেলের নামও উঠে এসেছে শীর্ষ খেলাপির তালিকায়।
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপিত হয়। এনসিপির এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর প্রশ্নে জানতে চান, দেশে এই মুহূর্তে প্রকৃত খেলাপি ঋণের পরিমাণ কত, শীর্ষ ২০ খেলাপি কারা, খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকার কী ব্যবস্থা নিয়েছে এবং সংসদ সদস্যদের ব্যাংক ঋণ ও খেলাপি ঋণের পরিমাণ কত।
জবাবে অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তালিকা অনুযায়ী, শীর্ষ ঋণখেলাপির প্রথম ১০টির মধ্যে ৯টি এবং ১৭ নম্বর প্রতিষ্ঠানের মালিক বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলম গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো– এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেড, এস আলম ভেজিট্যাবল অয়েল লিমিটেড, এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাজট্রিজ লিমিটেড, এস আলম কোল্ড রোলড স্টিলস লিমিটেড, সোনালী ট্রেডার্স, গ্লোবাল ট্রেডিং করপোরেশন লিমিটেড, চেমন ইস্পাত লিমিটেড, এস আলম ট্রেডিং কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড, ইনফিনিট সিআর স্ট্রিপস ইন্ডাজট্রিজ লিমিটেড ও মুরাদ এন্টারপ্রাইজ।
বাকি ১০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন দু’টি এবং সিকদার গ্রুপের মালিকানাধীন তিন প্রতিষ্ঠান রয়েছে তালিকায়। বেক্সিমকোর দুই প্রতিষ্ঠান হলো–তালিকার ৬ নম্বরে থাকা বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি এবং ১৯ নম্বরে থাকা বেক্সিমকো কমিউনিকেশন্স।
সিকদার গ্রুপের মালিকানাধীন পাওয়ার প্যাক মুতিয়ারা কেরাণীগঞ্জ পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড রয়েছে ১৩ নম্বরে, ১৪ নম্বরে থাকা পাওয়ার প্যাক মুতিয়ারা জামালপুর পাওয়ার প্ল্যান্ট লিমিটেড এবং ১৮ নম্বরে থাকা সিএলসি পাওয়ার কোম্পানিও এই গ্রুপের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। তালিকার ১১ নম্বরে রয়েছে কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড, দেশবন্ধু সুগার মিলস রয়েছে ১২ নম্বরে।
বিএনপির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খানের মালিকানাধীন দেশের প্রথম মোবাইল ফোন অপারেটর প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড, যা সিটিসেল নামে পরিচিত রয়েছে তালিকার ১৫ নম্বরে। কর্ণফুলি গ্রুপের মালিকানাধীন কর্ণফুলি ফুডস প্রাইভেট লিমিটেড রয়েছে তালিকার ১৬ নম্বরে। রফিকুল ইসলামের মালিকানাধীন রংধনু বিল্ডার্স প্রাইভেট লিমিটেড রয়েছে তালিকার ২০ নম্বরে।