যশোরে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে হামলাকারী নিহত
যুগশঙ্খ ডেস্ক : যশোরে জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধে দুইজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের একজন রফিকুল ইসলাম (৪৫) সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের জগহাটি গ্রামের তবজেল মল্লিকের ছেলে। পেশায় মুদি দোকানদার। অন্যজন আব্দুল আলিম পলাশ (৩৫) একই গ্রামের হজরত আলীর ছেলে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে চৌগাছা উপজেলার সলুয়া কলেজের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে অভিযুক্ত পলাশ ধারালো হাসুয়া দিয়ে রফিকুল ইসলামের মাথা ও মুখমণ্ডলে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। পরে রফিকুলের স্বজনদের গণপিটুনিতে নিহত হন পলাশ।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আবুল বাশার জানান, রফিকুল ও পলাশের মধ্যে জমিজমা নিয়ে গত দুই বছর ধরে বিরোধ চলে আসছে। রফিকুল ইসলাম বাইসাইকেল যোগে বাড়ি থেকে দোকানে যাচ্ছিলেন। এ সময় শলুয়া কলেজের সামনে পৌঁছালে পূর্বশত্রুতার জেরে পলাশ নামে এক ব্যক্তি তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
এ সময় পলাশ ধারালো হাসুয়া দিয়ে রফিকুল ইসলামের মাথা ও মুখমণ্ডলে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। হামলার পর ঘটনাস্থলে রফিকুল ইসলাম লুটিয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রফিকুল ইসলামের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় রেফার করেন। ঢাকা নেয়ার পথে সন্ধ্যায় নড়াইলে তিনি মারা যান। পরে স্বজনরা তাকে যশোর এনে ২৫০ শয্যা হাসপাতালের মর্গে রাখেন।
এদিকে, রফিকুলের ওপর হামলার ঘটনায় তার স্বজন ও স্থানীয়রা উত্তেজিত হয়ে হামলাকারী পলাশকে ঘিরে ফেলে। বিক্ষুব্ধ জনতার বেধড়ক পিটুনিতে পলাশ গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে স্থানীয় সাঁজিয়ালি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আব্দুর রউফ জানান, ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়। এখনও সেখানে পুলিশের টিম অবস্থান করছে।