জাপানের নির্বাচনে ‘আয়রন লেডি’ তাকাইচির নিরঙ্কুশ বিজয়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : তার জোটসঙ্গী 'জাপান ইনোভেশন পার্টি' (ইশিন)-এর ৩৬টি আসনসহ তাকাইচির নিয়ন্ত্রণে এখন ৩৫২টি আসন। এর ফলে তিনি পার্লামেন্টে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা বা 'সুপারমেজরিটি' অর্জন করলেন। এ শক্তিশালী ম্যান্ডেট তাকে উচ্চকক্ষের কোনো বাধা ছাড়াই প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো বা সংবিধান সংশোধনের মতো বড় নীতিগুলো পাসের সুযোগ করে দেবে।
জাপানের রাজনীতিতে নতুন ইতিহাসের সূচনা করলেন দেশটির প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। প্রবল তুষারপাত ও প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে গতকাল রোববার অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে। ৪৬৫ আসনের নিম্নকক্ষে এলডিপি একাই ৩১৬টি আসন লাভ করেছে, যা ১৯৫৫ সালে দলটির প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত সেরা ফলাফল।
জাপানের 'আয়রন লেডি' হিসেবে পরিচিত প্রধানমন্ত্রী তাকাইচির এ বিশাল বিজয়কে কেবল একটি দলীয় জয় নয়, বরং তার কট্টর রক্ষণশীল এবং সাহসী নীতিমালার প্রতি জনগণের সরাসরি সমর্থন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তার জোটসঙ্গী 'জাপান ইনোভেশন পার্টি' (ইশিন)-এর ৩৬টি আসনসহ তাকাইচির নিয়ন্ত্রণে এখন ৩৫২টি আসন। এর ফলে তিনি পার্লামেন্টে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা বা 'সুপারমেজরিটি' অর্জন করলেন। এ শক্তিশালী ম্যান্ডেট তাকে উচ্চকক্ষের কোনো বাধা ছাড়াই প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো বা সংবিধান সংশোধনের মতো বড় নীতিগুলো পাসের সুযোগ করে দেবে।
তাকাইচির এই জয় মূলত তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং তরুণ প্রজন্মের সমর্থনের ওপর ভিত্তি করে এসেছে। 'সানা-কাৎসু' বা তাকাইচি-উন্মাদনায় মেতে থাকা তরুণ ভোটাররা তার সোজাসাপ্টা কথা এবং কর্মঠ ইমেজে মুগ্ধ। তবে তার অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে খাদ্যের ওপর ৮ শতাংশ ভোক্তা কর স্থগিত করার প্রতিশ্রুতি এবং প্রতিরক্ষা খাতে ব্যাপক ব্যয় বৃদ্ধির ঘোষণা জাপানের বিশাল ঋণের বোঝা আরো বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাকাইচির এই জয় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় তাকাইচিকে অভিনন্দন জানিয়ে তার 'শক্তির মাধ্যমে শান্তি' নীতির প্রশংসা করেছেন। ভারত ও তাইওয়ানের নেতারাও তাকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন। তবে প্রতিবেশী চীনের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন আরো বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। তাইওয়ান ইস্যুতে তাকাইচির কঠোর অবস্থান এবং প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়ানোর পরিকল্পনাকে চীন জাপানের সামরিকবাদী অতীতে ফেরার চেষ্টা হিসেবে দেখছে।
তাকাইচি তার প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, এ বিজয় তাকে জনগণের জন্য কাজ করার এক বড় দায়িত্ব দিয়েছে। বিরোধীদের প্রতি নমনীয় আচরণের ইঙ্গিত দিলেও তিনি তার মূল এজেন্ডা—শক্তিশালী প্রতিরক্ষা এবং জনগণের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধিতে অনড় থাকবেন বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।