বয়স ৪০ পার হলেও তারুণ্য ধরে রাখা সম্ভব, চিকিৎসকের পরামর্শ
লাইফস্টাইল ডেস্ক : বয়স ধরে রাখা সম্ভব না, তবে কম-বেশি আমরা সবাই তারুণ্য ধরে রাখতে চাই। অনেক সময় দেখা যায় আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মন খারাপ করেন অনেকেই। কারণ বয়সের সঙ্গে ত্বকের উজ্জ্বলতা কমে যাওয়া আর মুখে বয়সের ছাপ পড়া। অনেকেই মনে করেন বয়স বাড়ার সঙ্গে তারুণ্য হারানো স্বাভাবিক। কিন্তু বিজ্ঞান বলছে, সঠিক খাবার খেলে শরীর শুধু সুস্থই থাকে না, ত্বকও ভেতর থেকে হয়ে উঠতে পারে উজ্জ্বল, টানটান ও তরুণ।
ত্বক আমাদের শরীরের সবচেয়ে বড় অঙ্গ। তাই ভেতরের পুষ্টি, ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ঘাটতি প্রথমে ধরা পড়ে মুখেই। লোশন, ক্রিম বা সিরাম কিছুটা সাহায্য করলেও আসল পরিবর্তন আসে খাবারের মাধ্যমে। বিশেষজ্ঞরা কিছু খাবার খেতে বলেছেন যেগুলো বয়স বাড়লেও তারুণ্য ধরে রাখবে। এগুলো হলো:
লাল ক্যাপসিকাম ভিটামিন সি-তে ভরপুর, যা কোলাজেন তৈরি করে ত্বককে টানটান রাখে। এতে থাকা ক্যারোটিনয়েড সূর্যের ক্ষতি, দূষণ ও টক্সিন থেকে ত্বককে রক্ষা করে। তাই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় লাল ক্যাপসিকাম রাখতে বলেন বিশেষজ্ঞরা।
পেঁপে খুব সহজেই পাওয়া যায়। এই ফলটিতে আছে ভিটামিন এ, সি, ই ও প্যাপেইন এনজাইম। এটি মৃত কোষ দূর করে নতুন কোষ গঠনে সাহায্য করে। ফলে ত্বক হয় মসৃণ ও উজ্জ্বল। সকালে নাস্তার সঙ্গে পেঁপের ওপর লেবুর রস ছিটিয়ে খেতে পারেন, অথবা বাসায় পেঁপের ফেসপ্যাক তৈরি করে ব্যবহার করতে পারেন।
ব্লুবেরিতে থাকা অ্যান্থোসায়ানিন শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এটি স্ট্রেস, দূষণ ও সূর্যের ক্ষতি থেকে ত্বককে রক্ষা করে এবং কোলাজেন ভাঙা কমায়। সকালে স্মুদি বা ফলের বাটিতে ব্লুবেরি যোগ করতে পারেন। এটি যেমন সুস্বাদু, তেমনি ত্বকের জন্যও উপকারী।
ভিটামিন সি ও কে, ফাইবার, ফোলেটসহ নানা পুষ্টি উপাদান কোলাজেন উৎপাদন বাড়ায়। শুধু ত্বক নয়, হাড় ও মস্তিষ্কের জন্যও এটি অত্যন্ত উপকারী। ব্রকলি কাঁচা খাওয়া গেলেও হালকা ভাপে রান্না করে খেলে এর পুষ্টিগুণ আরও ভালোভাবে পাওয়া যায়। ভাজি, স্যুপ বা পেস্টো বিভিন্নভাবে এটি খাদ্যতালিকায় যোগ করতে পারেন।
পালং শাকে আছে আয়রন, ভিটামিন এ, সি, ই, কে এবং লুটেইন। এটি শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়িয়ে ত্বককে উজ্জ্বল ও টানটান রাখে। পালং শাক কম-বেশি সারাবছর পাওয়া যায়। অ্যান্টি-এজিং খাবার হিসেবে তাই নিয়মিত পালং শাক খেতে পারেন।
বাদামে থাকা ভিটামিন ই ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং অতিবেগুনি রশ্মির ক্ষতি কমায়। ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকের প্রাকৃতিক গ্লো বজায় রাখে। বাদাম নানানভাবে খাওয়া যায়। চাইলে সালাদের সঙ্গেও খেতে পারেন। আবার হালকা নাশতা হিসেবেও একমুঠো বাদাম খেতে পারেন। তবে খেয়াক রাখতে হবে বাদামের খোসা যেন থাকে। কারণ খোসাতেই থাকে অনেক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।
স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ভিটামিন কে, সি, ই এবং এ ত্বককে নরম ও স্থিতিস্থাপক রাখে। এটি মৃত কোষ ঝরিয়ে ত্বককে নতুনভাবে উজ্জ্বল করে। আমাদের দেশেও এখন অ্যাভোকাডো পাওয়া যায়। তাই ইন্টারনেট থেকে নিজের পছন্দমত স্বাস্থ্যকর উপায়ে অ্যাভোকাডো খেতে পারেন।
শুনতে অবাগ লাগলেও মিষ্টি আলু কিন্তু একটি অ্যান্টি-এজিং খাবার। এতে থাকা বিটা-ক্যারোটিন ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়ে ত্বকের কোষ পুনর্গঠন করে। ফলে ত্বক হয় মসৃণ ও উজ্জ্বল। তাই চাইলে হালকা নাশটা হিসবে নিয়মিত মিষ্টি আলু খেতে পারেন।
ডালিম বহুদিন ধরেই প্রাকৃতিক ঔষধি ফল হিসেবে পরিচিত। এতে রয়েছে ভিটামিন সি এবং শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরকে ফ্রি র্যাডিক্যালের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং প্রদাহ কমায়। ডালিমে থাকা ‘পিউনিক্যালাজিন’ নামের একটি উপাদান ত্বকের কোলাজেন রক্ষা করতে সাহায্য করে, ফলে বয়সের ছাপ ধীরে পড়ে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যত বেশি রঙিন খাবার আপনার প্লেটে থাকবে, তত বেশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে যাবে। তাই তারুণ্য ধরে রাখার জন্য শুধু বাইরের যত্ন নয়, প্রতিদিনের খাবারে প্রয়োজন সচেতনতা। সঠিক খাবার মানেই শুধু সুস্থ শরীর নয় র ভেতর প্রাকৃতিক গ্লো আসে। তাই স্বাস্থ্যকর খাবার খান তারুণ্য ধরে রাখুন।