ঢাকা, বাংলাদেশ

শপথ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে

প্রকাশিত :

‎নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এক ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শপথ নিতে যাচ্ছে দেশের নতুন মন্ত্রিসভা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অভিপ্রায় অনুযায়ী এবার প্রথা ভেঙে বঙ্গভবনের পরিবর্তে সংসদ প্রাঙ্গণে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

এই শপথ অনুষ্ঠানে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

আজ রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এসব কথা জানান।

আইন উপদেষ্টা জানান, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এই শপথ বাক্য পাঠ করাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে বিএনপি তাদের সংসদীয় দলের প্রধান (সংসদ নেতা) নির্বাচিত করবে। সবশেষে বিকেল ৪টায় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি এই শপথ বাক্য পাঠ করাবেন।


কেন বঙ্গভবনের বদলে সংসদের দক্ষিণ প্লাজাকে বেছে নেওয়া হলো—এমন প্রশ্নে আসিফ নজরুল বলেন, ‘জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার যে অভ্যুত্থান এবং বিপুল আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা এই সংসদ পেয়েছি, তার গুরুত্ব অন্য সব সংসদের থেকে আলাদা। এই সংসদ প্রাঙ্গণেই “জুলাই ঘোষণা” ও “জুলাই সনদ”-এর মতো ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানগুলো হয়েছে। এ ছাড়া এখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা এবং শহীদ ওসমান হাদির স্মৃতি জড়িয়ে আছে। জুলাই অভ্যুত্থানের বিভিন্ন ডকুমেন্টেশন প্রকাশের কেন্দ্রও হয়ে দাঁড়িয়েছিল এই সংসদ। এসব আবেগ ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে বিএনপির প্রস্তাব অনুযায়ী এটি সংসদ ভবনেই আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’


মন্ত্রিসভার শপথ বঙ্গভবনে না হয়ে কেন দক্ষিণ প্লাজায়, জানালেন আইন উপদেষ্টামন্ত্রিসভার শপথ বঙ্গভবনে না হয়ে কেন দক্ষিণ প্লাজায়, জানালেন আইন উপদেষ্টা
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতির বিষয়ে আসিফ নজরুল জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এখন পর্যন্ত সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানোর খবর তিনি মিটিংয়ে শুনেছেন। তবে কোনো দেশের প্রধানমন্ত্রী সশরীরে উপস্থিত থাকছেন কিনা, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য তার কাছে নেই।

উল্লেখ্য, ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও ব্যস্ততার কারণে তাঁর পরিবর্তে দিল্লির কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত থাকতে পারেন বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো আগে আভাস দিয়েছিল। সর্বশেষ জানা গেছে, আগামী মঙ্গলবার তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন ভারতের লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লা এবং পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ (ক্যাবিনেট ডিভিশন) বর্তমানে কনভেনশন অনুযায়ী আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা চূড়ান্ত করছে। দক্ষিণ প্লাজাকে বর্ণিল সাজে সাজানোর কাজ শুরু হয়েছে। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে এই শপথ অনুষ্ঠানটি দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মনে করছে অন্তর্বর্তী সরকার।

যুগশঙ্খ