নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সংসদে স্বাভাবিক বিতর্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক : নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সংসদে স্বাভাবিক বিতর্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে মশিউর রহমান যাদু মিয়ার ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, কিছু মহল মাত্রা ছাড়িয়ে নিয়মতান্ত্রিক তর্ক-বিতর্ককে ‘মব কালচার’-এ রূপ দেয়ার চেষ্টা করছে। এতে জাতি সতর্ক হয়ে যায়—আবারও কোনো ভিন্ন রাজনৈতিক মানসিকতা ফিরে আসছে কি না, সেই প্রশ্ন তৈরি হয়। এ সময় তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
তথ্য মন্ত্রী বলেন, মশিয়ূর রহমান যাদু মিয়া ছিলেন সেই দূরদর্শী নেতা, যিনি মওলানা ভাসানীর ধানের শীষ প্রতীককে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরেই ধানের শীষের নেতৃত্ব আজ তারেক রহমানের হাতে।
তিনি বলেন, এই রাজনৈতিক প্রতীকী রূপান্তরের পেছনে যাদু মিয়ার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও কৃতিত্ব মিশে আছে। মাত্র ৫৫ বছর বয়সে তিনি মারা গেলেও আজকের গণতান্ত্রিক ও বহুদলীয় রাজনীতির ভিত্তিভূমি তিনিই তৈরি করে দিয়েছিলেন।
জহির উদ্দিন স্বপন দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, আমাদের সরকার অত্যন্ত সচেতনভাবে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদকে মূর্তমান করার কাজ করছে। আমাদের স্পষ্ট কথা—সবার আগে বাংলাদেশ। এ সময় তিনি আরও বলেন, দিল্লির প্রতি যাদের মোহ রয়েছে কিংবা পিন্ডির প্রতি যাদের টান রয়েছে, আমরা ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিয়ে সেই মোহগ্রস্তদের ঘুম ভাঙাতে চাই।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, একটি মহল অবাধ নির্বাচনকে বিতর্কিত ও প্রলম্বিত করতে চেয়েছিল। কিন্তু আমরা গণতান্ত্রিক রাজনীতির অনিবার্য অনুষঙ্গ নির্বাচনকে সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছি।
তিনি আরও বলেন, গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে। ১৯৯১ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সংসদীয় রাজনীতি নতুন করে প্রাণ ফিরে পেয়েছিল, যা পরবর্তীতে স্বৈরাচার এরশাদ ছিনতাই করেছিল, শেখ হাসনার শাসনামলে ভুলন্ঠিত হয়েছিল, আমি-ডামি নির্বাচন, নিশি রাতের নির্বাচন ও এক তরফা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘আজ তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে আবারও সংসদীয় গণতন্ত্র ও রাজনীতির যাত্রা শুরু হয়েছে।’