সংরক্ষিত নারী আসন: বরিশাল বিভাগে মনোনয়ন পেলেন মাত্র ৩ নেত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে ৩৬ জন প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগের মাত্র দুজন বিএনপি নেত্রী রয়েছেন। এঁরা হলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান এবং জেবা আমিন খান। অপর দিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী জোট থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে রয়েছেন কেবল ঝালকাঠি জেলার মাহমুদা আলম মিতু। দুই জোট থেকে বরিশাল বিভাগে মাত্র তিনজন নেত্রী সংসদ সদস্য হতে যাচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেলিমা রহমান বিএনপির পোড় খাওয়া একজন নেত্রী। দলটির সর্বোচ্চ ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্য হয়েও তিনি বরিশাল-৪ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে মনোনয়ন পাননি। অবশেষে সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন পাওয়ায় উৎফুল্ল সেলিমার অনুসারীরা। এর আগে তিনি সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেলিমা রহমানের বাবা বিচারপতি আব্দুল জব্বার খান। তিনি ছিলেন তৎকালীন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার।
এ ছাড়া বরিশাল বিভাগে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়া অপর নেত্রী জেবা আমিন খান প্রখ্যাত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আখতার উদ্দিন আহম্মেদের কন্যা। ১৯৬২ সালের ২১ জুন ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন জেবা আমিন আল গাজী। তাঁর মা আতিয়া আহম্মেদ। তিনি বিএনপির অঙ্গসংগঠন মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি ঝালকাঠি জেলা বিএনপির একজন সদস্য হিসেবেও সক্রিয় রয়েছেন।
জানা যায়, তাঁর স্থায়ী নিবাস ঝালকাঠি সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের মকরমপুর গ্রামে। এর আগে জেবা আমিন ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ঝালকাঠি-২ (সদর-নলছিটি) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
এদিকে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের ১৩ সদস্যের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। জোটের চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, সংরক্ষিত নারী আসনে ১৩ জন প্রার্থীর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী থেকে আটজন এবং অন্যান্য শরিক দল ও বিশেষ ক্যাটাগরি থেকে পাঁচজন মনোনয়ন পেয়েছেন। এঁদের মধ্যে একজন নারী হলেন বরিশালের ঝালকাঠী জেলার। তিনি এনসিপি থেকে মনোনয়ন পাওয়া ‘জাতীয় নারীশক্তি’র সদস্যসচিব মাহমুদা আলম মিতু।
জানা গেছে, ডা. মাহমুদা আলম মিতুর পৈতৃক বাড়ি ঝালকাঠি-১ আসনের কাঁঠালিয়া উপজেলার শৌলজালিয়ার দক্ষিণ কৈখালী গ্রামে। তাঁর দাদা আমজাদ হোসেন তিনবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। শৈশব ও শিক্ষাজীবনের একটি বড় অংশ কেটেছে ঝালকাঠি ও বরিশালে। শৌলজালিয়া হাইস্কুল থেকে অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি অর্জনের পর বেতাগী ডিগ্রি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করেন। পরে ঢাকায় শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি লাভ করেন।