হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী, খরচ আরও কমানোর আশ্বাস
নিজস্ব প্রতিবেদক : সৌদি আরব সরকারের নির্ধারিত হজ ব্যবস্থাপনার রোডম্যাপ অনুযায়ী চলতি বছরের হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বছরের হজ ফ্লাইট কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি। সেই সঙ্গে আগামী বছর থেকে হজযাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি হজের খরচ আরও কমানোর আশ্বাসও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
বাংলাদেশ থেকে এ বছরের প্রথম হজ ফ্লাইট শুক্রবার রাত ১২টা ২০ মিনিটে যাত্রা করে। ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে ফ্লাইটটি সৌদি আরবের জেদ্দার বাদশাহ আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
এদিন ফ্লাইটে চড়ে হজযাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে দেশ ও জাতির জন্য তাদের কাছে দোয়া চান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা প্রত্যেকে আল্লাহর মেহমান। আপনাদের যাদের আল্লাহর ঘরে যাওয়ার তৌফিক হয়েছে, তারা যদি হাত তুলে দোয়া করেন, আল্লাহ আপনাদের দোয়া কবুল করবেন।
হজযাত্রীদের দেশ ও জাতির কল্যাণের জন্য দেয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা দেশ ও দেশের মানুষের জন্য দোয়া করবেন। যাতে আল্লাহ তৌফিক দেন, আমাদের সামনে যত সমস্যা-বিপদ আছে, সেগুলো যেন আমরা মোকাবিলা করতে পারি। দেশের মানুষের জন্য সরকারের নেয়া উদ্যোগগুলো যেন সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি।
এ সময় আগামী বছর থেকে সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি হজের খরচ কমানোর আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা সরকার গঠনের আগেই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই এই হজ ব্যবস্থার বেশিরভাগ কাজগুলো হয়ে গিয়েছিল। তারপরও যতটুকু সম্ভব আমরা চেষ্টা করেছি, অন্তত ১২ হাজার টাকা কমানোর চেষ্টা করেছি। আগামী বছর যাতে আরও খরচ কমাতে পারি, কম খরচে যাতে হজে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পারি আপনারা দোয়া করবেন।
পরে প্রধানমন্ত্রীসহ অন্যদের উপস্থিতিতে ফ্লাইটেই হজযাত্রীদের নিরাপদ যাত্রার পাশাপাশি দেশ ও জাতির কল্যাণ চেয়ে দেয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ফ্লাইট থেকে নেমে বিমানবন্দরের ভিভিআইপি লাউঞ্জ হয়ে বাইরে এসে বিমানবন্দর ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, সৌদি রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহ। এ ছাড়া ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মুন্সি আলাউদ্দিন আল আজাদ, বেসামরিক বিমান চলাচল সচিব ফাহমিদা আখতার, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক উপস্থিত ছিলেন।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমে হজ ক্যাম্প উদ্বোধন করেন। সেখানে তিনি হজযাত্রীদের সঙ্গে কোলাকুলি করেন এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী হজের প্রথম ফ্লাইট অর্থাৎ বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে ওঠেন এবং যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি দোয়া করেন যাতে তারা নির্বিঘ্নে সৌদি আরবে পৌঁছান। এর মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করলেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী প্রথমে রাত ১০টা ৫০ মিনিটে আশকোনা হজ ক্যাম্পে যান। সেখানে একটি মেডিকেল ক্যাম্পেরও উদ্বোধন করেন তিনি। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হজযাত্রীদের জন্য শুভেচ্ছা উপহার দিয়েছেন। উপহারসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে এক লাখ বোতল পানি। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে উদ্বোধনী ফ্লাইটের যাত্রীদের জন্য ব্যাকপ্যাক, ইহরাম সাবান, পানির পট, পেট্রোলিয়াম জেলি, মিসওয়াক ও আজওয়া খেজুর দেওয়া হয়েছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্ধিত ফ্লাইট শিডিউল ও বিমান ভাড়া কমানোসহ সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পরই হজ ফ্লাইট শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে এ বছর প্রায় ৭৮ হাজার ৫০০ হজযাত্রী সৌদি আরব যাবেন। তাদের মধ্যে চার হাজার ৫৬৫ জন সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে হজ পালন করবেন। মোট হজযাত্রীর প্রায় ৫০ শতাংশ বহন করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বাকি হজযাত্রীদের বহন করবে সাউদিয়া এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স।
প্রথম দিনে মোট ১৪টি ফ্লাইট পরিচালনার কথা। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ছয়টি, সাউদিয়ার তিনটি এবং ফ্লাইনাসের তিনটি ফ্লাইট থাকবে। আগামী ২১ মে হজ-পূর্ব ফ্লাইট শেষ হবে। এ বছর মোট ২০৭টি হজ-পূর্ব ফ্লাইট নির্ধারিত রয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১০২টি, সাউদিয়া ৭৫টি এবং ফ্লাইনাস ৩০টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ৩০ মে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে এবং চলবে ১ জুলাই পর্যন্ত।