ভূমিকম্পে ধ্বংস হয়েছিল পাপাচারে নিমজ্জিত সামুদ জাতি
যুগশঙ্খ ডেস্ক : আরব উপদ্বীপের উত্তর-পশ্চিমের মনোরম পাথুরে মরুভূমি, আজ যার পরিচিতি ‘মাদাইন সালেহ’। পর্যটকরা এখন যেটিকে নিস্তব্ধ এক প্রত্নতাত্ত্বিক জাদুঘর মনে করে। হাজার হাজার বছর আগে সেখানে ছিল এক সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী ‘সামুদ’ জাতির বসতি। পাহাড় কেটে প্রাসাদ বানানোর অদ্ভুত দক্ষতা, শক্তিশালী সামাজিক কাঠামো ও আত্মতুষ্ট অহংকার—সবকিছু মিলিয়ে তাদের ইতিহাস ছিল বিস্ময়ে ভরা। কিন্তু এই জাতির পরিণতি ছিল মর্মান্তিক।
সুরা হুদের ৬৭ থেকে ৬৮ আয়াতে সামুদ জাতির সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বর্ণনা করেছেন। প্রবল ক্ষমতাধর সামুদ জাতি আল্লাহ তাআলার আজাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। সেই আজাব থেকে আল্লাহ তা’আলা হজরত সালেহ (আ.) ও তার সঙ্গী ইমানদারদের রক্ষা করেছেন। এসব আয়াতে সামুদ জাতির চূড়ান্ত পরিণতি সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।
সামুদরা তাদের ঘরবাড়ি বানাত কঠিন পর্বতের গায়ে। বর্তমান প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় দেখা যায়, শিলাখণ্ডের ভেতরে কেটে তারা এমন ঘর বানিয়েছে, যার স্থাপত্য আজও বিস্ময় জাগায়। কিন্তু সমৃদ্ধির পাশাপাশি জাতিটি ক্রমশ নৈতিক অবক্ষয়ে ভুগছিল।
একদিকে উন্মুক্ত প্রান্তরে পাথর খোদাই করে করে প্রাসাদের পর প্রাসাদ তৈরি হচ্ছিল, অন্যদিকে সমাজে কুফর, শিরক ও পৌত্তলিকতার প্রসার ঘটছিল। ন্যায়-ইনসাফ বলে সে সমাজে কিছুই ছিল না। অন্যায় ও অবিচারে সমাজ জর্জরিত হতে থাকে। সমাজে চরিত্রহীন লোকের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।
ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী, আল্লাহ নবি সালেহ (আ.)–কে তাদের সতর্ক করার জন্য পাঠিয়েছিলেন। হজরত সালেহ (আ.) যে সত্যের দাওয়াত দিয়েছেন, তাতে সাধারণ শ্রেণির লোকেরাই বেশি সাড়া দেয়। অহংকারে অন্ধ বেশির ভাগ সামুদ জনগোষ্ঠী সতর্কবার্তা অগ্রাহ্য করে। উল্টো বিদ্রোহী আচরণের অংশ হিসেবে তারা এক আশ্চর্য উষ্ট্রী, যা তাদের জন্য নিদর্শন হিসেবে পাঠানো হয়েছিল, তাকেও হত্যা করে। সেই মুহূর্ত থেকেই শুরু হয় তাদের পতনের কাউন্টডাউন।
সামুদ জাতির ওপর নেমে আসে এক ভয়ঙ্কর ‘রজফাহ’—প্রচণ্ড কম্পন। প্রকৃতির যেকোনো শক্তিশালী ভূমিকম্পের মতোই সেই আঘাত ছিল আকস্মিক, বিধ্বংসী এবং নিস্তারহীন। পরবর্তী সময়ে ‘সায়হাহ’ নামে এক প্রচণ্ড বিস্ফোরণধর্মী শব্দ তাদের সভ্যতার শেষ অধ্যায়টিকে আরও বেদনাদায়ক করে তোলে। মুহূর্তের মধ্যেই শক্তিশালী জাতিটি নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। তাদের দালান, খোদাইকরা কুঠুরি আর জনপদ পরিণত হয় নিঃশব্দ ধ্বংসস্তূপে।
মাদাইন সালেহ আজ ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান।