ঢাকার ৩ জায়গায় সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের অবরোধ, তীব্র যানজট
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব, টেকনিক্যাল ও তাঁতীবাজার মোড় অবরোধ করেছেন সাত কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা সায়েন্স ল্যাব মোড় অবরোধ করেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে টেকনিক্যাল মোড় অবরোধ করা হয়। অন্যদিকে তাঁতীবাজার মোড় অবরোধ করা হয় দুপুর পৌনে ১২টার দিকে।
অবরোধকারী শিক্ষার্থীরা তাদের দাবির পক্ষে নানা স্লোগান দিচ্ছেন। এসব স্লোগানের মধ্যে রয়েছে, ‘রাষ্ট্র তোমার সময় শেষ, জারি করো অধ্যাদেশ’। অবরোধের কারণে সংশ্লিষ্ট সড়কগুলোয় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী-চালকেরা।
দুপুর ১টার দিকে সায়েন্স ল্যাব মোড়, সাড়ে ১২টার দিকে টেকনিক্যাল মোড় ও দুপুর পৌনে ১২টার দিকে তাঁতীবাজার মোড় অবরোধ করা হয়। তাঁতীবাজার মোড় অবরোধ করায় পুরান ঢাকার সড়কগুলোয় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। সড়কগুলোতে গাড়ির চাকা ঘুরছে না বললেই চলে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন–২০২৫ এর হালনাগাদ খসড়ার অনুমোদন দিতে হবে। একইসঙ্গে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি করতে হবে।
এর আগে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীরা জানান, সাত কলেজের সমন্বয়ে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রণীত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন–২০২৫’-এর খসড়া গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। পরে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে একাধিক পরামর্শ সভার মাধ্যমে খসড়াটি হালনাগাদ করা হয়।
শিক্ষার্থীদের দাবি, গত ৭ ও ৮ ডিসেম্বর শিক্ষা ভবনের সামনে টানা অবস্থান কর্মসূচির সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে জানুয়ারির প্রথম দিকেই অধ্যাদেশ জারির আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তবে এখনো সে বিষয়ে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে অবরোধ কর্মসূচিতে নেমেছেন।
তবে এরইমধ্যে অধ্যাদেশের চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রশাসনিক উৎকর্ষ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যেই এই অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়েছে। পরবর্তী ধাপে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের নীতিগত সম্মতি গ্রহণ এবং লেজিসলেটিভ বিভাগের ভেটিং শেষে এটি উপদেষ্টা পরিষদের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।