বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত যুক্তরাজ্যে আটক
যুগশঙ্খ ডেস্ক : রাশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত (চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স–সিডিএ) মো. ফয়সাল আহমেদকে যুক্তরাজ্য থেকে আটক করেছে দেশটির পুলিশ। বার্মিংহামে স্থানীয় সময় সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) তাকে আটক করা হয়।
যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী ড. রাশেদ নামে এক বাংলাদেশি নাগরিক চ্যানেল 24 অনলাইনকে জানান, তিনি ফয়সাল আহমেদের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ ফয়সালকে আটক করে।
ড. রাশেদ জানান, ‘ফয়সাল আহমেদ তাকে গান দিয়ে শুট করে হত্যার হুমকি দেয়। পরে এ ব্যাপারে তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন। এর আগেও ফয়সালকে পুলিশ আটক করেছে, আবার ছেড়ে দিয়েছে।’
জানা যায়, ফয়সাল আহমেদের বিরুদ্ধে পারিবারিক নির্যাতন, কমিউনিটিকে ভয়ভীতি দেখানো এবং অস্থির আচরণের অভিযোগ আছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্যের পুলিশ তাকে আটক করে। এর আগে গত সপ্তাহেও তাকে একবার আটক করা হলেও পরে ছেড়ে দেয়া হয়।
মস্কোয় বাংলাদেশ দূতাবাসে অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সমস্যা সৃষ্টি এবং সহকর্মীদের সঙ্গে অসংগত আচরণের অভিযোগে এ কূটনীতিককে রাশিয়ায় ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ করা হয়। চলতি বছরের মে মাসে মস্কোয় বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে দেশে ফেরার নির্দেশ দেয়া হয় তাকে। তবে তিনি দেশে ফেরেননি। ধারণা করা হচ্ছে, রাশিয়া থেকে যুক্তরাজ্যে গিয়ে তিনি সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন।
প্রসঙ্গত, গত ২২ মে ফয়সাল আহমেদের একটি ফেসবুক পোস্ট নিয়ে দেশে-বিদেশে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়। ওই পোস্টে তিনি পররাষ্ট্র সচিব নিয়োগ প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলে সমালোচনামূলক মন্তব্য করেন, যা কূটনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক সৃষ্টি করে।
তিনি ফেসবুকে লিখেছিলেন, ‘হ-য-ব-র-ল সেগুনবাগিচায় কে পররাষ্ট্রসচিব হবেন, নিশ্চিত নয়। একজন অতিরিক্ত সচিব আসাদ আলম সিয়ামকে ১০ জন সচিবকে ডিঙিয়ে কেন তড়িঘড়ি করে পররাষ্ট্র সচিব করা হচ্ছে বোধগম্য নয়। আসাদ আলম সিয়াম শেখ হাসিনার লয়ালিস্ট হিসেবে তিন বছর চিফ অব প্রটোকল ছিলেন। আওয়ামী লীগের ইন্টারেস্ট সার্ভ করার জন্যই পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আসাদ আলম সিয়ামকে নির্বাচনকালীন পররাষ্ট্রসচিব করতে চান।’
এর পরপরই তাকে রাশিয়া থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে দেশে ফেরার নির্দেশ দেয়া হয়। এছাড়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ফয়সাল আহমেদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে, যা তার আচরণ নিয়ে আরও প্রশ্ন তৈরি করে।