ঢাকা, বাংলাদেশ

শীর্ষ সন্ত্রাসী বিনাশের নির্দেশে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মুসাব্বিরকে হত্যা: ডিবি

প্রকাশিত :

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিদেশে অবস্থানরত শীর্ষ সন্ত্রাসী দিলীপ ওরফে বিনাশের নির্দেশে ঢাকা মহানগর উত্তর জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান ওরফে মুসাব্বিরকে (৪৪) হত্যা করা হয়েছে।

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ও ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ (ডিবি) প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

ডিবি জানায়, হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত করা হয় অর্থের বিনিময়ে। দুই ভাড়াটে বন্দুকধারী জিন্নাত ও আবদুর রহিম মুসাব্বিরকে গুলি করে হত্যা করে। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে দুইজনকেই দেখা গেছে।

শুক্রবার ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি নরসিংদীর মাধবদী এলাকা থেকে শুটার আবদুর রহিমকে গ্রেফতার করে। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি বিদেশী পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন ও ১২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। মাধবদী থানায় রহিমের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেফতার আসামিদের মধ্যে একজন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

পুলিশ জানায়, বিনাশের সঙ্গে গ্রেফতার হওয়া আসামিদের যোগাযোগ রয়েছে। এ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মুসাব্বিরকে গত ৭ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে তেজগাঁও থানার পশ্চিম তেজতুরি বাজারের হোটেল সুপার স্টারের পাশের একটি গলিতে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে তার স্ত্রী অজ্ঞাত চার থেকে পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডটি কারওয়ান বাজার এলাকায় চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে সংঘটিত হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক আসামিদের গ্রেফতার এবং হত্যাকাণ্ডের পূর্ণ রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে।

এ ছাড়া সংবাদ সম্মেলনে ডিবি জানায়, আসন্ন ত্রয়োদশ সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ডিবি ওয়ারী বিভাগের একটি দল শুক্রবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় অভিযান চালিয়ে মো. রানা মোল্লা ও নূর মোহাম্মদকে গ্রেফতার করে। এ সময় একটি বিদেশী পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, সাত রাউন্ড গুলি ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।

যুগশঙ্খ