ঢাকা, বাংলাদেশ

কাদা ছোড়াছুড়ি নয়, সমস্যা সমাধানে প্রতিযোগিতা করতে হবে : তারেক রহমান

প্রকাশিত :

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমাদের রাজনীতি হতে হবে পলিসি নির্ভর। রাজনৈতিক দল ও নেতৃত্বের মধ্যে পারস্পরিক কাদা ছোড়াছুড়ির পরিবর্তে উন্নয়ন ও সমস্যা সমাধানে কার কী নীতি থাকবে এবং তা কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে সেসব বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনা ও বিতর্ক হওয়া উচিত। তবেই দেশ এগিয়ে যাবে।

একই সঙ্গে গত ১৫ বছরে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করার বিষয়ে আলোকপাত করে তারেক রহমান বলেন, পুঁজিবাজারের অংশীজনরা এসেছিলেন। তারা জানিয়েছেন, গত ১৫ বছরে পুঁজিবাজারের যে ক্ষতি হয়েছে, গত দেড় বছরে তার চেয়েও বেশি ক্ষতি হয়েছে। অযোগ্যদের বসিয়ে আর্থিকখাত ধ্বংস করা হয়েছে। বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনীতি আগামী সরকারকে চাপে ফেলবে বলেও উল্লেখ করা হয় আলোচনায়।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তারেক রহমান এসব কথা বলেন। এসময় দেশের অর্থনীতি ও পুঁজিবাজারের সমস্যাগুলো সম্পর্কে তারেক রহমানকে অবহিত করে ডিআরইউ। পরে তিনি ভবিষ্যতে দেশ ও পুঁজিবাজারের স্বার্থে বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দেয়ার আশ্বাস দেন।

ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের নেতৃত্বে তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে ডিআরইউর কার্যনির্বাহী কমিটি ও অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি চেয়ারম্যানের প্রেস সেক্রেটারি সালেহ শিবলী, সিনিয়র সাংবাদিক ও আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন, ডিআরইউর সহ-সভাপতি মেহ্দী আজাদ মাসুম, যুগ্ম সম্পাদক মো. জাফর ইকবাল, অর্থ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এম জসিম, দফতর সম্পাদক রাশিম মোল্লা, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিজান চৌধুরী, তথ্য প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাহমুদ সোহেল, ক্রীড়া সম্পাদক ওমর ফারুক রুবেল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. মনোয়ার হোসেন, আপ্যায়ন সম্পাদক আমিনুল হক ভূঁইয়া ও কল্যাণ সম্পাদক রফিক মৃধা, কার্যনির্বাহী সদস্য মো. আকতার হোসেন, আলী আজম, মাহফুজ সাদি, আল-আমিন আজাদ, সুমন চৌধুরী এবং মো. মাজাহারুল ইসলাম।

আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপির ভাবনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ঢাকাকে একটি বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে যানজটসহ সব নাগরিক সমস্যার সমাধানে দেশি-বিদেশি পেশাদার বিশেষজ্ঞদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে বিএনপি। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি উৎপাদন এবং দেশকে শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ডসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ রূপরেখার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

ঢাকার চারপাশে স্যাটেলাইট সিটি গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব স্যাটেলাইট সিটির সঙ্গে ঢাকার ট্রেন যোগাযোগ থাকবে, যেখানে ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টার মধ্যে যাতায়াত সম্ভব হবে। এতে রাজধানীর ওপর চাপ অনেকাংশে কমে আসবে। তিনি পুরান ঢাকাকে আরো বাসযোগ্য করে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান।

এছাড়া বুড়িগঙ্গা নদীকে লন্ডনের টেমস নদীর আদলে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বুড়িগঙ্গার তলদেশে জমে থাকা পলিথিন উত্তোলন করে প্রায় দুই ফিট খনন করা গেলে নদী তার আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারে। তিনি বলেন, সরকার গঠনের সুযোগ পেলে কৃষির সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ঘটিয়ে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করবে বিএনপি। তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশকে একটি মানবিক রাষ্ট্রে পরিণত করার সময় এখনই। সকল নাগরিক তার যথাযোগ্য মর্যাদা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোন কোন দলের সদস্যরা গ্রামের নারীদের কাছ থেকে বিকাশ নাম্বার সংগ্রহ করছেন। এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজ। আমরা চাই একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে। জনগণ যাকে ভোট দেবে সে ক্ষমতায় আসবে। আমরা সবাই মিলে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে চাই।

ফ্যামিলি কার্ডের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি দেশ গঠনে দায়িত্ব পেলে সকলেই ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। তবে তিনি আশা করেন, ফ্যামিলি কার্ডটি মূলত দরিদ্র পরিবারের সদস্যরাই ব্যবহার করবেন। যার দরকার হবে না বা যিনি সচ্ছল তিনি এ কার্ড নিজেই ব্যবহার করবেন না।

স্বাধীন গণমাধ্যমের বিষয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় যেতে পারলে গণমাধ্যম পুরো স্বাধীনতা ভোগ করবে। সাংবাদিকদের সুরক্ষায় কাজ করবে বিএনপি সরকার। ডিআরইউর নিরপেক্ষতায় ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, সাংবাদিকরা কোন দলকে সমর্থন করলেও কর্মক্ষেত্রে এর প্রতিফলন না ঘটানোই উত্তম। বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বিগত সময়ে দেশে গণতন্ত্র না থাকলেও ডিআরইউ প্রতিবছর ৩০ নভেম্বর নির্বাচন করে থাকে। এটি নিশ্চয়ই প্রশংসার দাবিদার। এসময় তিনি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যনির্বাহী কমিটিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ জানান।

সাক্ষাৎ শেষে ডিআরইউর পক্ষ থেকে আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য পারিবারিক মিলন মেলা অনুষ্ঠানে সপরিবারে উপস্থিত থাকার জন্য তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এসময় ডিআরইউর শুভেচ্ছা স্মারক ও প্রকাশনা সামগ্রী তার হাতে তুলে দেন সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

যুগশঙ্খ