৩২ আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবি জামায়াত জোটের
নিজস্ব প্রতিবেদকে : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৩২টি আসনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে পুনর্গণনা দাবি জানিয়েছে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী জোট। বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) প্রতিকার না পেলে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল, এমনকি হাইকোর্টে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি জোটের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন।
আজ রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।
বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ ও নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন না।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘ত্রুটিগুলোসহ নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে আমরা কথা বলেছি। বিশেষ করে ৩২টি আসন চিহ্নিত করেছি, যেখানে অল্প ভোটের ব্যবধানে আমাদের হারানো হয়েছে বলে অভিযোগ। এসব আসনে পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছি।’
এক প্রশ্নের জবাবে আযাদ বলেন, ‘৩২টি আসনে পুনর্মূল্যায়নের দাবি আছে। গেজেট প্রকাশ হলেও আইনের তিন ধাপ আছে—ইসি, ট্রাইব্যুনাল, এরপর হাইকোর্টে রিট। আমরা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করব। এ আসনগুলোর বাইরেও কিছু আসনের বিষয়ে আমাদের কাছে প্রমাণ আসতেছে, সেগুলোর বিষয়েও আইনের আশ্রয় নেব।’
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘শপথের বিষয়ে আমরা ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছি। শপথ নেব, পার্লামেন্টে যাব, গঠনমূলক ভূমিকা রাখব। একইসঙ্গে রাজপথও আমাদের জন্য খোলা থাকবে।’
ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ তুলে আযাদ বলেন, ‘সংস্কার প্রশ্নে বলি—নির্বাচন কমিশন চেষ্টা করেছে, এটা আমরা শুনেছি ও বিশ্বাস করতে চাই। তবে ভোট গ্রহণ সুষ্ঠু হলেও ফলাফল ঘোষণা যদি স্বচ্ছ না হয়, সেখানে দায় এড়ানো যায় না। ইঞ্জিনিয়ারিং হলে তার দায় নির্বাচন কমিশনকেও নিতে হবে।’
শপথ নেব, সংসদে যাব, গঠনমূলক সমালোচনাও করব: আযাদশপথ নেব, সংসদে যাব, গঠনমূলক সমালোচনাও করব: আযাদ
আযাদ বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের প্রথম ধাপ—নির্বাচনের কয়েকটি ধাপ আছে। প্রথমত ভোট গ্রহণ, দ্বিতীয়ত ভোট গণনা, তৃতীয়ত ফলাফল প্রকাশ। এই তিন ধাপের মধ্যে ভোট গ্রহণের ক্ষেত্রে অতীতের তুলনায় কিছু গুণগত পরিবর্তন আমরা দেখেছি। বড় ধরনের খুনাখুনি বা সহিংসতা তেমন দৃশ্যমান ছিল না। তবে এখানে প্রচুর জালভোট হয়েছে, কালো টাকার ছড়াছড়ি ছিল। কোথাও কোথাও হুমকি-ধমকি, সন্ত্রাস, মারামারি বা হামলার ঘটনাও ঘটেছে। বড় ঘটনা না ঘটলেও, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এগুলো প্রশ্নবিদ্ধ করার মতো উপাদান তৈরি করেছে।’
জামায়াত নেতা বলেন, ‘ভোট গ্রহণকালীন বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করে আমরা অসুস্থ পরিবেশের নানা দিক প্রত্যক্ষ করেছি। ভোট গ্রহণের সূচনা ভালো হলেও সমাপ্তি সুন্দর হয়নি।’
নির্বাচনের গেজেট তড়িঘড়ি করে প্রকাশ করা হয়েছে দাবি করে আযাদ বলেন, ‘১২ তারিখে নির্বাচন, ১৩ তারিখ রাত ১১টায় গেজেট প্রকাশ হয়েছে। দূরবর্তী এলাকা থেকে কেউ অভিযোগ দাখিলের সুযোগই পেলেন না। আমরা কমিশনকে বলেছি—অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখুন। আইনের দরজা খোলা আছে। আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় যাব। আমাদের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে—এ প্রশ্ন রয়ে গেল।’
জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘নির্বাচনের আগে ও পরে সহিংসতার ঘটনাও উদ্বেগজনক। কিন্তু তাতো হওয়ার কথা ছিল না। কারণ পুরোনো সংস্কৃতি হতে বের হওয়ার জন্যইতো জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে রক্তদান। তাহলে কি এটাই হচ্ছে? বাংলাদেশে আবারও ফ্যাসিবাদের স্বৈরতন্ত্র উত্থান হতে যাচ্ছে। আমাদের বোনেরা নিরাপদ নন। হাতিয়ার ঘটনার মতো উদাহরণ সামনে এসেছে, ২০১৮ সালের সুবর্ণচরের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে, সেদিন ভোট দেওয়ার কারণে চার সন্তানের মা গণধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন কিন্তু প্রশাসন অস্বীকার করেছিল, হাতিয়ার ঘটনায়ও একই সুর বাজতেছে। স্বৈরাচারী আমলের সুর যদি এ সময়ে বাজে তাহলে গুণগত পার্থক্য কোথায়? আমার নিজের আসনেও তিনজন নারী আহত হয়েছেন। ৫৪টি জেলার রিপোর্ট আমরা জমা দিয়েছি।’
৩০ আসনে জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে ইসিতে ১১ দলীয় জোট৩০ আসনে জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে ইসিতে ১১ দলীয় জোট
ভোট গণনার সময় কিছু কেন্দ্রে ১১ দলীয় জোটের এজেন্টদের জোর করে বের করে দেওয়া হয়েছে, গণনার সময় নিষ্ক্রিয় করা হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, সুষ্ঠু গণনার পরিবেশ কোথাও কোথাও ব্যাহত হয়েছে। ভোট গণনায় ত্রুটি থাকলে, ফলাফলে প্রভাব পড়বে এটাই স্বাভাবিক।
ফলাফলের শিটে ঘষামাজা, পুর্নলেখন এবং অনেক জায়গায় প্রার্থীর মূল এজেন্টের স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, ‘ঢাকা-৬ আসনের একটি কেন্দ্রের ফলাফল লেখা হয়েছিল পেনসিলে। সেখানে আমাদের এজেন্ট ছিল মুসলিম। কিন্তু এজেন্টের নাম লিখা ছিল একজন হিন্দু ভদ্রলোকের। নাম পরিবর্তন হওয়ায় ফলাফল শিটের বৈধতা কি? এ রকম ত্রুটিপূর্ণ রেজাল্ট শিট আমাদের কাছে আছে। সব ত্রুটি নিয়ে ইসির সঙ্গে কথা হয়েছে।’
বিরোধী দলীয় নেতা, উপনেতা, ও চিফ হুইপের বিষয়ে সংসদ সদস্যরা সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন আযাদ। তিনি বলেন, ‘শপথ গ্রহণের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
ছায়া মন্ত্রিসভার বিষয়ে জানতে চাইলে আযাদ বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা আনুষ্ঠানিক আলোচনা করি নাই। সবাই মত দিচ্ছে। আলোচনার পরে জানাব।’