ঢাকা, বাংলাদেশ

ছাত্রদলের সাবেক শীর্ষ নেতাদের মধ্যে মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে যাদের

প্রকাশিত :

বিশেষ প্রতিবেদক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক ৮ কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। এরমধ্যে প্রথমবারের মতো ৫ জন জাতীয় সংসদে যাচ্ছেন। এছাড়াও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতিসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির বেশ কয়েকজন নেতা এবার ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছেন।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ‘ভ্যানগার্ড’ খ্যাত ছাত্রসংগঠনটির সাবেক শীর্ষ নেতৃত্ব জাতীয় সংসদে যাওয়ার পথ প্রশস্ত হওয়ায় সংগঠনটির নেতাদের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা তৈরি হয়েছে। ছাত্রদলকে বিএনপির গুরুত্ব দেওয়া এবং ছাত্রনেতাদের জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা আবার প্রমাণিত হয়েছে।

সংসদ নির্বাচন শেষে শুরু হয়েছে মন্ত্রিসভা গঠনের তোড়জোড়। নির্বাচিত ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে কয়েকজনকে তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে। যারা ভোট করেননি তাদের মধ্য থেকে একাধিক ছাত্রদলের সাবেক শীর্ষ নেতাকে টেকনোক্র্যাট কোটায় কেবিনেটে দেখা যেতে পারে। নানা চমকে ঠাসা থাকবে তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা। বিএনপি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

নির্বাচিতদের মধ্যে রয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক ও ডাকসুর সাবেক ভিপি আমানউল্লাহ আমান। তিনি ঢাকা-২ (কেরানীগঞ্জ) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে এক লাখ ৬৩ হাজার ৭৯৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। ছাত্রদলের সাবেক শীর্ষ নেতা ও ডাকসুর সাবেক জিএস খায়রুল কবির খোকন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নরসিংদী-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। ১ লাখ ৬০ হাজার ৬৭৬ ভোট পেয়ে তিনি বিজয়ী হয়েছেন।

গাজীপুর-৫ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এ কে এম ফজলুল হক মিলনও বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ছিলেন। তিনি ১ লাখ ৩৩ হাজার ৬৯৭ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। আর লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। তিনিও সংগঠনটির সাবেক সভাপতি ছিলেন। তার প্রাপ্ত ভোট ১লাখ ৩৩ হাজার ৭৬৫। তাদেরকে তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে। উপরোক্ত চারজনের মধ্যে আমানউল্লাহ আমান এর আগে সাবেক প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এবার প্রবীণদের অভিজ্ঞতা আর নবীনদের উদ্যম-এই দুইয়ের সমন্বয়ে গঠন করা হবে নতুন মন্ত্রিসভা। তবে মন্ত্রিসভার আকার বেশি বড় হবে না বলে জানিয়েছেন বিএনপির নীতিনির্ধারক কয়েকজন নেতা। তারা জানিয়েছেন, ৩২ থেকে ৪২ সদস্যের মধ্যে থাকতে পারে মন্ত্রিসভা। এ নিয়ে ইতোমধ্যে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা শুরু করেছেন। তবে কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন জানা যাবে তা শপথের পর।

বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলোর মতে, নির্বাচনের পরদিন শুক্রবার সন্ধ্যার পর সিনিয়র নেতারা দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করেন এবং ফুল দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান। পরে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন দলীয় প্রধান। বিএনপির একজন নীতিনির্ধারক বলেন, বৈঠকে তারেক রহমান সিনিয়র নেতাদের পরামর্শ নেন। বিশেষ করে মন্ত্রিসভায় কারা থাকতে পারেন তা নিয়ে পরামর্শ করেন তিনি। এছাড়া সংসদ-সদস্যেদের শপথ, মন্ত্রিসভা গঠনসহ নির্বাচনের সার্বিক বিষয় নিয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হয়।

এবার প্রথমবারের মতো খুলনা-৪ আসন থেকে ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজিজুল বারী হেলাল ধানের শীষে বিজয়ী হয়েছেন। খুলনার আরেকটি আসন থেকে বিজয়ী

হয়েছেন ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি রকিবুল ইসলাম বকুল। টাঙ্গাইল-৫ (সদর) থেকে সংগঠনটির সাবেক সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ও সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি-চৌহালি) আসনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলিম জয়ী হয়েছেন। পটুয়াখালী থেকে নির্বাচিত হয়েছেন এবিএম মোশাররফ হোসেন, তিনি সাবেক ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক। ঢাকা-৯ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন হাবিবুর রশিদ হাবিব। তিনি সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। রাজীব আহসান বরিশাল-৪ আসন থেকে ধানের শীষে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি সংগঠনটির সাবেক সভাপতি ছিলেন। ছাত্রদলের সাবেক সহ সভাপতি ও যুবদলের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন ভোলা থেকে প্রথমবার নির্বাচিত হয়েছেন। ছাত্রদলের সাবেক নেতা ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বর্তমান সভাপতি এস এম জিলানী গোপালগঞ্জ থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। মন্ত্রিসভায় নবীন প্রবীণের সমন্বয় থাকলে তাদের মধ্যে কারও কারও ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়ে যেতে পারে বলে বিএনপির ভেতরে বাইরে আলোচনা চলছে।

সংসদ-সদস্য নন এমন কয়েকজন মেধাবী ও দলের জন্য নিবেদিত হেভিওয়েট নেতাকেও এবার টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী করা হবে। এদের মধ্যে টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। এই দুজন দলের জন্য নিবেদিত। তারা নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্রসংগঠন থেকে উঠে আসা এসব নেতার সংসদে প্রবেশ দলীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বিশেষ করে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদের যাওয়া সাবেক এসব নেতাদের। একই সঙ্গে জাতীয় রাজনীতিতে ছাত্রনেতৃত্বের ধারাবাহিক প্রভাবও স্পষ্ট হলো।

বিএনপির নীতিনির্ধারক আরেকজন নেতা বলেন, মন্ত্রিসভায় কারা থাকবেন সেটি দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে ঠিক করছেন। এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি ওই নীতিনির্ধারক।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কেমন মন্ত্রিসভা হতে যাচ্ছে, তা দেখার জন্য দেশবাসীকে আর অল্প কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে।

যুগশঙ্খ