রাজধানীতে ঘরে ঝুলছিল মায়ের লাশ, বিছানায় ছেলের গলাকাটা মরদেহ
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর খিলগাঁওয়ের তিলপাপাড়া এলাকায় একটি বাসা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় মা ও তাঁর পাঁচ বছর বয়সী ছেলের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে ওই বাসা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন নার্গিস (৩৫) ও তাঁর ছেলে মাহিম। নার্গিস গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সাবু মিয়ার স্ত্রী। তাঁরা খিলগাঁওয়ের তারাবাগ এলাকায় ভাড়া করা বাসায় বাস করতেন।
খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে খবর পেয়ে তারাবাগ এলাকায় আব্দুল হামিদের বাসায় যায় খিলগাঁও থানা-পুলিশ। সেখানে একটি কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পাওয়া যায়। জানালা দিয়ে দেখা যায়, ফ্যানের সঙ্গে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছেন এক নারী। পরে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে পুলিশ। এ সময় ওই নারীকে ঝুলন্ত অবস্থায় এবং বিছানায় শিশুটির গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের জেরে মা তাঁর শিশুসন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁদের সংসারে আর্থিক অনটন ছিল এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায় সময় ঝগড়া হতো।
এসআই রফিকুল ইসলাম বলেন, স্বামীর সঙ্গে বিরোধের জেরে হতাশাগ্রস্ত হয়ে মা প্রথমে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশুটিকে হত্যা করেন। পরে নিজে ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে।
ঘটনার পর সিআইডির ক্রাইমসিন ইউনিটসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং আলামত সংগ্রহ করেন। পরে মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।
খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ছেলেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যার পর মা আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।