ঢাকা, বাংলাদেশ

কিছু বিষয়ে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ‘সমঝোতা’, যুদ্ধবিরতি রেখে অধিকতর আলোচনায় জোর পাকিস্তানের

প্রকাশিত :

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কিছু বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। এমনটি জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। আর পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে অবশ্যই অব্যাহত রাখতে হবে। এটা অত্যন্ত জরুরি, যাতে অধিকতর আলোচনার পথ পরিষ্কার রাখা যায়। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডনের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

ইসহাক দার জোর দিয়ে বলেছেন, ‘যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে অবশ্যই অব্যাহত রাখতে হবে। এটি অত্যন্ত জরুরি।’ তিনি আরও বলেন, আগামী দিনগুলোতেও পাকিস্তান তার ভূমিকা পালন করে যাবে, যাতে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যোগাযোগ ও সংলাপ সহজতর হয়। নিজের বক্তব্যের শেষাংশে দার এই আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন।


অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ইরানি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র বেশ কিছু বিষয়ে ‘একটি সমঝোতায়’ পৌঁছেছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ দু-তিনটি বিষয়ে মতপার্থক্য’ এখনো রয়ে গেছে।


বাঘাই বলেন, এই আলোচনা হয়েছে ৪০ দিনের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের পর এবং আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে অবিশ্বাস ও সন্দেহের আবহে। শুরু থেকেই এক বৈঠকে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো যাবে, এমন প্রত্যাশা করা স্বাভাবিক ছিল না। তাঁর ভাষায়, ‘কেউই এমনটি আশা করেনি।’

এর আগে স্থানীয় সময় আজ রোববার ভোরে ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, ইরানের সঙ্গে ২১ ঘণ্টা আলোচনার পরও কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পেরে তাঁর আলোচনাকারী দল পাকিস্তান ত্যাগ করছে। ভ্যান্স আলোচনার ত্রুটিগুলো উল্লেখ করে বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার শর্তসহ আমেরিকার দেওয়া শর্তগুলো মেনে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘খারাপ খবর হলো, আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি।’

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি মনে করি, এটি (চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারা) যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্য অনেক বেশি খারাপ খবর। সুতরাং আমরা কোনো চুক্তিতে না পৌঁছেই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাচ্ছি। আমাদের রেড লাইন বা চূড়ান্ত সীমাগুলো কী, তা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছি।’ ভ্যান্স জানান, আলোচনা চলাকালে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে অন্তত ছয়বার কথা বলেছেন।

যুগশঙ্খ