সানজিদা ইসলাম তুলি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ‘জীবন্ত প্রতীক’: তারেক রহমান
নিজস্ব প্রতিবেদক : গত ১৬ বছরের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের ‘জীবন্ত প্রতীক’ হিসেবে ঢাকা-১৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলির বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, স্বৈরাচারী শাসনামলে গুম, হত্যা ও নির্যাতনের যে ভয়ংকর বাস্তব চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছে তার অন্যতম প্রত্যক্ষ সাক্ষী তুলি নিজেই।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ঢাকা-১৪ আসনের ন্যাশনাল বাংলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ধানের শীষের প্রার্থী তুলি স্বৈরাচারের গুমের রাজনীতির প্রত্যক্ষ শিকার-নিজ পরিবার থেকেই তিনি এই নির্মমতার মূল্য দিয়েছেন। একই সঙ্গে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার আজ এ জনসভায় উপস্থিত থেকে সেই ত্যাগের সাক্ষ্য দিচ্ছেন।
এ প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘আমরা কি তাদের এই মহান ত্যাগ বৃথা যেতে দিতে পারি? না, পারি না।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, সামনে ১২ তারিখ নির্বাচন। ১৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে এ দেশের মানুষের কাছ থেকে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ সময় মানুষ প্রকৃত অর্থে ভোট দিতে পারেনি।
শুধু ভোটের অধিকারই নয়, মানুষের বাকস্বাধীনতাও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, ভোটের অধিকার মানুষের রাজনৈতিক অধিকার, অর্থনৈতিক অধিকার এবং ব্যক্তি স্বাধীনতার অধিকার। এসব অধিকার আদায় করতে গিয়ে গত ১৬ বছরে বহু মানুষ অকাতরে জীবন দিয়েছেন। অসংখ্য মানুষ গুম, নির্যাতন ও কারাবরণের শিকার হয়েছেন।
তারেক রহমান বলেন, এই জনসভায় যারা বসে আছেন, তাদের অনেকের স্বজন জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হয়েছেন। এ ত্যাগ বৃথা যেতে না দিতে হলে প্রথম ও প্রধান কাজ হলো-ভোটের অধিকারকে সত্যিকার অর্থে শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করা।
তিনি বলেন, গত ১৬ বছরে যারা ক্ষমতায় ছিল, তারা জনগণের কাছে কোনো জবাবদিহি করেনি। জনগণের অধিকার দমন করেই তারা শাসন চালিয়েছে। ১২ তারিখের নির্বাচন শুধু গণতন্ত্রের ভিত্তি মজবুত করার নির্বাচন নয়-এটি দেশের ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের নির্বাচন।
দেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, দল-মত নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষের জন্য অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী-নারীদের উন্নয়ন যাত্রার সঙ্গে সম্পৃক্ত না করলে বাংলাদেশ এগোতে পারবে না। সে কারণেই বিএনপি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর ঘোষণা দিয়েছে। সারা দেশের খেটে খাওয়া পরিবারগুলোর প্রতিটি মায়ের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে সরকার মাসিক সহায়তা দেবে এবং পরিবারগুলো ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হবে।
কৃষকদের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, কৃষক ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া তার শাসনামলে কৃষিঋণ এবং ২৫ বিঘা পর্যন্ত কৃষি জমির খাজনা মওকুফ করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে।
তরুণ সমাজের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষিত হয়েও আজ দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ বেকার। ঢাকা মহানগরসহ সারা দেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। ভোকেশনাল ট্রেনিং, আইটি প্রশিক্ষণ এবং টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউশন গড়ে তুলে ছেলে-মেয়েদের দক্ষ শ্রমশক্তিতে রূপান্তর করা হবে।
প্রবাসী কর্মীদের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে প্রায় দেড় কোটি প্রবাসী রয়েছেন। বিদেশে যেতে গিয়ে অনেককে পৈতৃক জমি বিক্রি করতে হয়। বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে ট্রেনিংপ্রাপ্ত কর্মীদের বিদেশে যাওয়ার জন্য স্বল্প সুদের সরকারি ঋণের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে তাদের জমি বিক্রি করতে না হয়। এই সিদ্ধান্তগুলো আমরা নিয়েছি জনগণের ভবিষ্যৎ বদলানোর জন্য।