সুনামগঞ্জের দেখার হাওর : হাজারো কৃষকের চেষ্টায় বাঁধ রক্ষা
যুগশঙ্খ ডেস্ক : হাজারো কৃষকের ঐক্যবদ্ধ চেষ্টায় আপাতত রক্ষা পেল সুনামগঞ্জের দেখার হাওর। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে পানির তোড়ে ভেঙে যায় গুজাউনি এলাকার এ বাঁধ। কৃষকদের চার ঘণ্টার প্রাণান্তকর চেষ্টায় রক্ষা পেল লাখো মানুষের প্রায় ৯ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধান।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী সুনামগঞ্জের দেখার হাওরে সদর উপজেলা, শান্তিগঞ্জ, দোয়ারাবাজার ও ছাতক উপজেলার মানুষের জমি আছে। এই হাওরে মোট জমির পরিমাণ ৪৫ হাজার ৮৫৯ হেক্টর। এর মধ্যে আবাদি জমি আছে ২৪ হাজার ২১৪ হেক্টর। হাওরে এবার অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় ঝাওয়া, শেয়ালমারা, গুমরাসহ কয়েকটি জায়গায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, দেখার হাওরের ভেঙে যাওয়া গুজাউনি বাঁধে বাঁশ পুঁতে, মাটি-বন ও বালুর বস্তা স্রোতের মধ্যে ফেলে বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করেন শত শত কৃষক। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাজারো কৃষক তাতে যুক্ত হলেন। সকলের চেষ্টায় একপর্যায়ে মহাবিপদ থেকে রক্ষা পায় দেখার হাওর।
গুজাউনি বাঁধের প্রায় পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে জনসবতি নেই, কেবল ধানের জমি এবং বিল। বাঁধ রক্ষার জন্য দূরের গ্রাম থেকে আসছিলেন কৃষকরা। কারও কাঁধে বাঁশ, কেউ বা কোদাল, কেউ টুকরিসহ বাঁধ রক্ষার কাজে যার কাছে যা আছে সঙ্গে নিয়ে বাঁধের দিকে আসছেন।
এই হাওরের একমাত্র ফসল বোরো ধান নিয়ে গেল এক সপ্তাহ ধরে উৎকণ্ঠায় রয়েছেন কৃষকরা। তারা বলেছেন, অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত হাওরের সবচেয়ে বড় বাঁধ উতারিয়া এখন তাদের গলার কাঁটা হয়েছে। এই বাঁধের কারণে গেল কয়েক দিনের বৃষ্টিতে দরিয়াবাজ অংশের ফসল ডুবে গেছে। শনিবার হাওরের গুজাউনি বাঁধ ভেঙে আরেকাংশ (মেলাউনি হাওর) ডুবতে থাকে। আপাতত বাঁধের ভাঙন ঠেকানো গেলেও একাংশে জলাবদ্ধতার যে পরিমাণ পানি আটকা আছে, তাতে অপরাংশ রক্ষা করা কঠিন জানিয়েছেন কৃষকরা।
হাওরসংলগ্ন মদনপুরের কৃষক আমিন উদ্দিন বললেন, পূর্ব পাশে বড়দৈ বিল, এই বিলের আশপাশের জমি ডুবে গেছে জলাবদ্ধতায়। ডান পাশের এক মেলানির হাওরেই তিন হাজার একর জমি আছে, ভাঙন ঠেকাতে না পারলে দেখতে দেখতে এই অংশ ডুবে যাবে। অপর হাওরেও পৌঁছাবে পানি।
কৃষকরা জানান, শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দেখার হাওরের মাঝখানে গুজাউনি বেড়িবাঁধ ভেঙে পানি প্রবেশ শুরু হয় ডান দিকের জয়কলস, শান্তিগঞ্জ ও পশ্চিম পাগলা অংশের দেখার হাওরে। এ সময় কৃষকরা চিৎকার কান্নাকাটি শুরু করেন। চার ঘণ্টার চেষ্টায় বাঁধের ভাঙন রোধ এবং ভাঙা অংশ দিয়ে নিচের দিকে পানি নামা বন্ধ হওয়ার পর স্বস্তির খবর ছড়ায় হাওরতীরে।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সুনামগঞ্জের সভাপতি ইয়াকুব বখ্ত বহলুল বলেন, ফসল কীভাবে রক্ষা করা যায় আরও ভাবতে হবে সকলের। যে বাঁধে হাওরে জলাবদ্ধতা তৈরি করে, তা দিয়ে লাভ কী হলো?
জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, যে বাঁধটি ভেঙেছে সেটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের ফসল রক্ষা বাঁধের আওতায় ছিল না। বৃষ্টিতে নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে বাঁধ কাটার খবর পাওয়া গেছে। এই বাঁধের বিষয়ে কৃষকদের পক্ষ থেকে আগে থেকে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। আগে থেকে জানা গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হতো।