ঢাকা, বাংলাদেশ

পহেলা বৈশাখে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন, বছরে দেয়া হবে ২৫০০ টাকা: কৃষিমন্ত্রী

প্রকাশিত :

নিজস্ব প্রতিবেদক : পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে টাঙ্গাইলের শহিদ মারুফ স্টেডিয়ামে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে। এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (১২ এপ্রিল) সচিবালয়ে এ কর্মসূচি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে দেশের ৮ বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লকে এই কৃষক কার্ড কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এই পর্যায়ে মোট ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, যার মধ্যে ২০ হাজার ৬৭১ জন প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষক অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। এছাড়া তালিকায় ফসল উৎপাদনকারী কৃষক, মৎস্যজীবী, পশুখামারি ও লবণ চাষিরাও রয়েছেন।

কৃষিমন্ত্রী আরও জানান, প্রি-পাইলট পর্যায়ে মোট কৃষকের মধ্যে ২ হাজার ২৪৬ জন ভূমিহীন কৃষক এবং ৯ হাজার ৪৫৮ জন প্রান্তিক কৃষক রয়েছেন। পাশাপাশি ফসল উৎপাদনকারী কৃষক ২১ হাজার ১৪১ জন, মৎস্যজীবী ৬৬ জন, পশুখামারি ৮৫৫ জন এবং লবণ চাষি রয়েছেন ৩ জন।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত এসব কৃষকের মধ্যে বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ প্রাপ্তি, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে ঋণসহ মোট ১০ ধরনের সেবা ও সহযোগিতা পাবেন।


মন্ত্রী দাবি করেন, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্তভাবে কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তার ভাষায়, এই প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভরভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে, যাতে প্রকৃত কৃষকরাই সুবিধা পান।


সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পহেলা বৈশাখে টাঙ্গাইলের শহিদ মারুফ স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষক কার্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে। একই সঙ্গে ৮ বিভাগের বিভিন্ন জেলার নির্ধারিত ১১টি ব্লকে একযোগে এই কার্যক্রম চালু থাকবে।

এগুলোর মধ্যে রয়েছে পঞ্চগড়ের সদর উপজেলার কমলাপুর ব্লক ও বোদার পাঁচপির ব্লক, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার উথলি ব্লক, ঝিনাইদহের শৈলকূপার কৃপালপুর ব্লক, পিরোজপুরের নেছারাবাদের রাজাবাড়ি ব্লক, কক্সবাজারের টেকনাফের রাজারছড়া ব্লক, কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার অরণাপুর ব্লক, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সুরুজ ব্লক, রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার তেনাপঁচা ব্লক, মৌলভীবাজারের জুড়ি উপজেলার ফুলতলা ব্লক এবং জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ব্লক।


কৃষিমন্ত্রী জানান, এই কর্মসূচি প্রি-পাইলটিং, পাইলটিং এবং পরবর্তীতে দেশব্যাপী বাস্তবায়ন এই তিন ধাপে সম্পন্ন করা হবে। প্রাথমিক পর্যায়ের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আগামী চার বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে সুবিধাভোগীর সংখ্যা বাড়ানো হবে।


তিনি আরও বলেন, কৃষক কার্ড একটি ডিজিটাল ইউনিক পরিচয়পত্র হিসেবে কাজ করবে, যা কৃষকদের জন্য নিরাপদ পেমেন্ট ব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি সেবা ও প্রণোদনা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করবে। এর মাধ্যমে কৃষি খাতে ডিজিটাল রূপান্তর ঘটবে, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে এবং দুর্নীতি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

যুগশঙ্খ