ঢাকা, বাংলাদেশ

ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের ৫৬ শতাংশই পথচারী

প্রকাশিত :

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ৫৬ শতাংশই পথচারী। এছাড়া ২৪ শতাংশ মোটরসাইকেল আরোহী এবং ৮ শতাংশ রিকশা ব্যবহারকারী। নিহতদের মধ্যে ৮০ শতাংশ পুরুষ এবং বয়সভিত্তিক হিসাবে ২০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মৃত্যুহার বেশি। দিনের তুলনায় রাতে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেশি, যার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে যানবাহনের অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া বাস-ট্রাক চলাচল।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) সভাকক্ষে ‘ঢাকায় সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি’ বা ‘রোড সেফটি সিচুয়েশন ইন ঢাকা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনের মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধান অতিথি ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবাল রোড সেফটি (বিআইজিআরএস) শীর্ষক বৈশ্বিক সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আন্তর্জাতিক সংস্থা ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিসের কারিগরি সহায়তায় ঢাকা শহরের সড়ক দুুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনায় ডিএমপির বিভিন্ন থানায় নথিভুক্ত সাধারণ ডায়রি ও মামলা বিশ্লেষণ করে এ প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে।

ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ঢাকা শহরের সড়কে পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহীদের মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি। দিনের চাইতে রাতে বেশি মানুষ মারা যায়। তখন যানজট থাকে না, সড়কে মানুষও কম থাকে। তারপরও রাতে বেশি মানুষ মারা যাবার প্রধান কারণ যানবাহনের অতিরিক্ত গতি।

ডিএনসিসি প্রশাসক আরো বলেন, ফুটপাথ বেদখল বা ব্যবহার উপযোগী না থাকার কারণে পথচারী সড়কে চলাচল করতে বাধ্য হয়। এ সময় গাড়ি পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। ফুটপাথে যেন কেউ বেদখল না করে সেজন্য নগরবাসীর সহায়তা প্রয়োজন। পথচারীরা সড়ক পারাপার হতেও দ্রুতগতির গাড়ির ধাক্কায় মারা যান। এজন্য যত্রতত্র সড়ক পারাপার হতে পথচারীদের বিরত থাকা দরকার। নির্দিষ্ট স্থান দিয়ে, জেব্রা ক্রসিং বা ফুটওভারব্রিজ দিয়ে সড়ক পার হলে পথচারীদের ঝুঁকি কমবে।

প্রশাসক বলেন, এ প্রতিবেদনে যেসব সড়ক ও মোড়ে বেশি মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে, ওয়ার্ল্ড রিসোর্স ইনস্টিটিউটের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে নতুন ডিজাইনের মাধ্যমে সেসব মোড় নিরাপদ করা হবে।

বিআইজিআরএস সমন্বয়কারী মো. আবদুল ওয়াদুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান, ব্র্যাক সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রোগ্রাম ম্যানেজার খালিদ মাহমুদ, ‘ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিস’-এর টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজর আমিনুল ইসলাম সুজন, ডিএনসিসির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ট্রাফিক ইঞ্জিনিয়ারিং সার্কেল) খন্দকার মাহবুব আলম।

অনুষ্ঠানে ‘ঢাকার সড়ক নিরাপত্তা পরিস্থিতি’ শীর্ষক প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করেন বিআইজিআরএস-ঢাকার সার্ভিল্যান্স কোঅর্ডিনেটর ডা. তানভীর ইবনে আলী। তিনি বলেন, ডিএমপির রেকর্ড করা তথ্যানুযায়ী ২০২২-২০২৩ সালে ঢাকা শহরে সড়কে দুর্ঘটনায় ৫৪০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের ৫৬ শতাংশ (৩০৩ জন) পথচারী, ২৪ শতাংশ (১২৮ জন) মোটরসাইকেল আরোহী ও ৮ শতাংশ (৪১ জন) রিকশা ব্যবহারকারী।

তিনি আরো বলেন, ওই সময়ে যাত্রাবাড়ী মোড় ও বিমানবন্দর মোড়ে সর্বোচ্চ ১২ জন করে ও আব্দুল্লাহপুর মোড়ে ১০ জন মারা যায়। বিশেষ করে, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের আর্মি গলফ ক্লাব বাস স্ট্যান্ড থেকে আবদুল্লাহপুর বাস স্ট্যান্ড পর্যন্ত ৮ কিলোমিটার সড়কে ৬৭ জন মারা গেছে, অর্থাৎ প্রতি কিলোমিটারে ৮ জনের বেশি মারা গেছে। সড়কে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবহারকারী অর্থাৎ, পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সমন্বিত উদ্যোগ নেয়ার ওপর জোর দেন তিনি।

ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে, সংশ্লিষ্ট প্রতিটি সংস্থাকে এগিয়ে আসতে হবে। যারা সড়ক ব্যবহার করেন, পথচারী, যাত্রী, চালক–সবাই সড়ক ব্যবহারে সচেতন হলে এবং আইনমেনে চললে সড়ক অনেকাংশে নিরাপদ হয়ে উঠবে।

বিআইজিআরএসের সমন্বয়কারী মো. আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোয় অবকাঠামোগত পরিবর্তন ও যথাযথভাবে সড়ক পরিবহন আইন প্রয়োগের মাধ্যমে পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ডিএমপি ও ডিএনসিসির উদ্যোগে ফুটপাথ থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে পথচারীদের নিরাপদ চলাচল উপযোগী করা হচ্ছে।

ব্র্যাকের সড়ক নিরাপত্তা কর্মসূচির ব্যবস্থাপক খালিদ মাহমুদ বলেন, সড়ক পরিহবন আইন ২০১৮ ও সড়ক পরিবহন বিধিমালা ২০২২, মানসম্মত হেলমেট ব্যবহারবিষয়ক গাইডলাইন, গতিসীমা নিয়ন্ত্রণ নির্দেশিকা প্রণীত হয়েছে। এসব আইন, বিধি ও নির্দেশিকার বাস্তবায়ন জরুরি।

যুগশঙ্খ