ঢাকা, বাংলাদেশ

রাজধানীর কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৩ দিন অনলাইন ও ৩ দিন অফলাইন ক্লাস হবে: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশিত :

বিশেষ প্রতিবেদক : বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, যানজট ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার বাস্তবতায় রাজধানী ঢাকার কিছু প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষামূলকভাবে ব্লেন্ডেড (অনলাইন-সশরীর) ক্লাস চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিন দিন অফলাইন (সশরীর) এবং তিন দিন অনলাইনে ক্লাস নেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্ত আগামী রোববার থেকে কার্যকর হবে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

সভায় রাজধানীর বিভিন্ন স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা উপস্থিত থেকে ব্লেন্ডেড পদ্ধতিতে ক্লাস পরিচালনার পক্ষে মত দেন এবং সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

প্রাথমিকভাবে অনলাইন ক্লাস পরিচালনায় সক্ষম এমন কিছু নির্বাচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরীক্ষামূলকভাবে এই পদ্ধতি চালু করা হবে। নতুন ব্যবস্থায় সপ্তাহে ছয় দিনের কার্যক্রমে তিন দিন সরাসরি (অফলাইন) এবং তিন দিন অনলাইন ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে।

নতুন ব্যবস্থার আওতায় সপ্তাহে ছয় দিনের কার্যক্রমে-শনিবার, সোমবার ও বুধবার শিক্ষার্থীরা সরাসরি (অফলাইন) ক্লাসে অংশগ্রহণ করবে। এবং রোববার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে।

সভায় বক্তারা বলেন, সময়ের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তির সংযোজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, ইন্টারনেট সুবিধা এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় তদারকি ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এছাড়া, অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য একটি রিপোর্টিং সিস্টেম চালুর প্রস্তাবও উপস্থাপন করা হয়, যা অফলাইন ক্লাসে ফলো-আপের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এটি কোনো বাধ্যতামূলক সিদ্ধান্ত নয়; বরং একটি পরিকল্পিত ও ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য উদ্যোগ। যেসব প্রতিষ্ঠান সক্ষম, তারা স্বেচ্ছায় এই পদ্ধতিতে অংশগ্রহণ করবে। ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের মাধ্যমে এ ধরনের ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত করার সম্ভাবনা রয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, ‘আপাতত ঢাকা মহানগরীর বড় ও যানজটপ্রবণ এলাকার রিনাউনড শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই পদ্ধতি ‘পাইলট প্রকল্প’ হিসেবে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘এটি সবার ওপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে না। যারা সক্ষমতা রাখে, সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে আমরা এই ‘ব্লেন্ডেড এডুকেশন’ বা সমন্বিত শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করছি।

শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা বাসায় বসে অনলাইনে ক্লাসে যুক্ত হলেও শিক্ষকদের স্কুলেই উপস্থিত থেকে অনলাইন ক্লাস পরিচালনা করতে হবে। শিক্ষকরা বাসায় বসে ক্লাস নেবেন না।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট বিবেচনায় এনে শিক্ষাব্যবস্থাকে অভিযোজিত করা জরুরি। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই উদ্যোগ সফল হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আজকের আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব জনাব আবদুল খালেক উপস্থিত ছিলেন।

যুগশঙ্খ