পৌনে ২ লাখ মেট্রিকটন জ্বালানি তেল কিনছে সরকার, কমলো দরপত্রের সময়সীমা
নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশে জরুরি জ্বালানি চাহিদা পূরণে দেড় লাখ মেট্রিক টন ডিজেল ও ২৫ হাজার মেট্রিক টন অকটেন আমদানিসহ চারটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এতে মোট ব্যয় হবে ২ হাজার ১০ কোটি ৮১ লাখ টাকা।
এছাড়া জ্বালানি তেল ক্রয়ে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়া ও দাখিলের সময়সীমা কমানোর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিদ্যমান বিধানে এ-সংক্রান্ত সময়সীমা ছিল ৪২ দিন। এটি কমিয়ে ১০ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ক্রয় কমিটি এবং অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব অনুমোদন দেওয়া হয়। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী উভয় সভায় সভাপতিত্ব করেন।
অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে আন্তর্জাতিক ক্রয়ে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ‘আর্চার এনার্জি এলএলসি’ থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল (ইএন ৫৯০-১০ পিপিএম) ক্রয়ের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এতে ব্যয় হবে ৬৭৪ কোটি ৬০ লাখ ২০ হাজার টাকা। প্রস্তাবটি ক্রয় কমিটির বৈঠকে উপস্থাপনের আগে ‘অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’র বৈঠকে এর নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়।
অপর একটি প্রস্তাবে ‘ডিবিএস ট্রেডিং হাউজ এফজেডকো থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল (ইএন ৫৯০-১০ পিপিএম) এবং ২৫ হাজার মেট্রিক টন অকটেন ক্রয়ের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এতে ব্যয় হবে ১ হাজার ২৩ কোটি ৬১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
বৈঠকে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ই-জিপে সিস্টেমে ৩০ কেজি ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ৩ কোটি পিস হেসিয়ান বস্তা ক্রয়ের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ৭৫টি প্যাকেজে এসব বস্তা ক্রয় করা হবে। এতে ব্যয় হবে ২১৫ কোটি ৬৪ লাখ ৮২ হাজার টাকা।
এছাড়া বৈঠকে ঢাকা ওয়াসা কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘ঢাকা পরিবেশবান্ধব টেকসই পানি সরবরাহ প্রকল্পে’র জন্য ২৪ মাস মেয়াদে একটি আন্তর্জাতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জার্মানির প্রতিষ্ঠান ‘ফিচনার জিএমবিএইচ অ্যান্ড কো. কেজিআর’-কে নিয়োগ দেওয়া হবে। এতে ব্যয় হবে ৯৬ কোটি ৯৫ লাখ ৪১ হাজার টাকা।
এছাড়া ‘অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’র বৈঠকে জ্বালানি তেল ক্রয়ে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়া ও দাখিলের সময়সীমা কমানোসহ পাঁচটি প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য প্রস্তাবগুলোর মধ্যে- ‘আর্চার এনার্জি এলএলসি’ ও ‘মাজদা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড’ থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন করে ২ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি; রাজউক ও বিএনজি গ্লোবাল হোল্ডিং এসডিএন বিএইচডি কনসোর্টিয়াম কর্তৃক ঝিলমিল আবাসিক এলাকায় মধ্যব্ত্তি আয়ের জন্য জন্য বহুতল ভবনটি পিপিপি’র আওতায় নির্মাণ প্রস্তাব বাতিল এবং কক্সবাজারে হোটেল শৈবালের জমিতে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন সুবিধা নির্মাণের একটি প্রস্তাব পিপিপি’র আওতায় বাস্তবায়নের প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।