ঢাকায়ও লোডশেডিং দেওয়ার সিদ্ধান্ত : সংসদে প্রতিমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক : কৃষকেরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন সেটা নিশ্চিত করা এবং গ্রাম ও শহরে বৈষম্য কমাতে সরকার রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিনন্দ্য ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রতিমন্ত্রী ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দিয়ে এ তথ্য জানান।
লোডশেডিংয়ে মানুষের কষ্টের কারণে দুঃখ প্রকাশ করেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী। সে সঙ্গে তিনি বলেন, আজ যেরকম প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং দেখা যাচ্ছে, যে কষ্ট স্বীকার করতে হচ্ছে এটি আগামী সাত দিনের মধ্যেই কমে যাবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘স্বীকার করতে কোনো দ্বিধা নেই, এই উত্তপ্ত গরমে গ্রীষ্মে আমাদের অনেককেই বিদ্যুৎ সমস্যায় নাজেহাল হতে হয়েছে। যে কথাটি স্পষ্টভাবে উচ্চারিত হচ্ছে এই সমস্যা একদিনের নয়। এই পুঞ্জিভূত সমস্যার দায় কোনোভাবেই বর্তমান নির্বাচিত সরকার কিংবা কারও নয়। এটি বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের অব্যবস্থাপনার দায় আমাদের সকলকে নিতে হচ্ছে।’
বর্তমানে উৎপাদন ক্ষমতা কাগজে কলম অনেক বেশি থাকলেও বাস্তবতার সঙ্গে সেটির গড়মিল রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, গতকাল বুধবার বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিল প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াট, তার বিপরীতে আমরা বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছি ১৪ হাজার ১২৬ দশমিক ৩৫ মেগাওয়াট। অর্থাৎ আমাদেরকে ২০৮৬ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে বাধ্য হতে হয়েছে এবং এক্ষেত্রে একটি নীতি এই সরকার প্রথম থেকে গ্রহণ করেছিল। যেহেতু ফসল ওঠার মৌসুম অর্থাৎ কোনোভাবেই আমাদের কৃষকেরা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, ফসলের ক্ষেত্রে সেচের জন্য পর্যাপ্ত ডিজেল এবং বিদ্যুৎ নিরবিচ্ছিন্ন রাখবার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে দিয়েছিলেন। আমরা সেটি নিশ্চিত করবার জন্য আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
বিদ্যুত প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহের অভাবে হয়তোবা কিছু কিছু জায়গায় লোডশেডিং হচ্ছে। এই বিষয়টি সহনীয় মাত্রায় আনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে এবং বিরোধীদলীয় নেতার সাথে আলোচনাক্রমে আমরা রাজধানী ঢাকাতে ১১০ মেগাওয়াট প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলকভাবে লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি।’
অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, ‘আমরা মনে করি শহরের মানুষ আরামে থাকবে এবং গ্রামের মানুষ অর্থাৎ খেটে খাওয়া কৃষক কষ্টে থাকবে, এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। কারণ জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা ছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ সমাজ অর্থাৎ শহর এবং গ্রামের মধ্যে কোনো বৈষম্য থাকতে পারে না, সেই বৈষম্যমুক্ত করার জন্য আমরা শহরেও প্রয়োজনে লোডশেডিং এর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যাতে করে কৃষকেরা তাদের সেচের জন্য পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পেতে পারে।’
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রশ্ন উঠবে যে, যদি আমরা বলেই থাকি যে জ্বালানি সক্ষমতা থাকল তাহলে কেন এই সমস্ত পাওয়ার প্লান্টগুলো পরিমিত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে ব্যর্থ হচ্ছে। একটি বার্তা স্পষ্ট করতে চাই, প্রতিদিন বাংলাদেশে ৩৮০০ মিলিয়ন ঘনফুটের গ্যাসের চাহিদা রয়েছে বর্তমানে বাংলাদেশের সকল গ্যাস কূপ মিলে প্রতিদিন আমরা ১৬৮৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করতে পারি। আর আমরা প্রতিদিন গড়ে আমদানি করি ৯৫০ মিলিয়ন ঘনফুট অর্থাৎ প্রতিদিন ১১৬৪ মিলিয়ন ঘনফুটে গ্যাসের আমাদের ঘাটতি থাকে।’
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, অর্থ থাকলেও, সামর্থ্য থাকলেও গ্যাসের আমদানি বাড়াবার কোনো সুযোগ নেই। কারণ এর জন্য যে অবকাঠামো রয়েছে সেই অবকাঠামোর দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব নয়। তারপরেও অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে, অত্যন্ত দায়িত্বের সঙ্গে আমরা জানাতে চাই, এ অবকাঠামো বাড়ানোর জন্য বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের যে অগ্রাধিকার তালিকা রয়েছে তার মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেশবাসী দেখতে সক্ষম হবে।’
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুটি আমদানিকৃত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি এবং আরেকটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিজেদের মেইনটেনেন্সের কারণে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারছে না। আশা করছি, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই তারা পূর্ণ উৎপাদনে যাবে। সেক্ষেত্রে আজ যেরকম প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং আমরা দেখতে পাচ্ছি কিংবা কষ্ট শিকার এটি আগামী সাত দিনের মধ্যেই কমে যাবে।’