ঢাকা, বাংলাদেশ

বনানীতে বাস দুর্ঘটনায় দুই জন নিহত

প্রকাশিত :

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর মহাখালীতে সেতু ভবনের সামনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস ফুটওভার ব্রিজে ধাক্কা দিয়েছে। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বিকেলে মহাখালী থেকে গাজীপুরগামী ‘ভুঁইয়া পরিবহন’-এর একটি বাসে তৃতীয় লিঙ্গের কিছু ব্যক্তি উঠতে চাইলে চালক ও বাসের হেলপার বাধা দেয়। হাতাহাতির একপর্যায়ে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে থাকা ফুটওভার ব্রিজে সজোরে ধাক্কা দেয়। এ সময় সড়কে আগে থেকে কাজ করা সিটি করপোরেশনের দুই শ্রমিক বাসের ধাক্কায় প্রাণ হারান।

দুর্ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলেও জানা গেছে। এদের মধ্যে দুই জন সংবাদকর্মীও ছিলেন। সংবাদ প্রতিদিনের সাংবাদিক রিমন মাহফুজ নিজের ফেসবুক পোস্টে এই দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করে লেখেন, “মহান আল্লাহ ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করলেন। আলহামদুলিল্লাহ।”

দুর্ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি লেখেন, “আজ ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বিকাল প্রায় পৌনে ৪টায় মহাখালী থেকে গাজীপুরগামী ভুঁইয়া পরিবহনের একটি বাস পথে হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এ সময় সড়কের পাশে থাকা একটি ফুট ওভারব্রিজে সজোরে ধাক্কা লাগে বাসটির। এতে ঘটনাস্থলেই দুই জনের মৃত্যু হয় এবং আরও কয়েকজন আহত হন।

“সেই বাসে সংবাদ প্রতিদিনের চিফ রিপোর্টার এহসান পারভেজ তুহিন ভাইসহ আমি প্রেস ক্লাব থেকে মেট্রোতে বিজয়নগর এসে ভূইয়া পরিবহনের বাসে বনানী আসছিলাম। মহাখালী ফ্লাইওভার থেকে বাসটি নিচে নামার সময় হঠাৎ চেয়ারম্যানবাড়ি সেতু ভবনের সামনের ফুট ওভারব্রিজের পিলারের সঙ্গে প্রচণ্ড গতিতে ধাক্কা লাগিয়ে দেয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তুহিন ভাই ছিটকে পড়ে গেলেন, আমি শক্ত করে সিটের সামনের অংশ ধরে থাকার পরও হাঁটু ও হাতে প্রচণ্ড ধাক্কা খেলাম। সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার—জানালার গ্লাস ভাঙার টুকরো ছিটকে পড়লো। তুহিন ভাইকে কোনোমতে তুলে বাস থেকে নেমে দেখি হেলপার বাসের নিচে পড়ে আটকে আছে, পাশে একজন বৃদ্ধের নিহর দেহ। আশপাশের মানুষ ছুটে আসলো উদ্ধার করতে। আমোদের দুজনেরই প্রচণ্ড ধাক্কায় পায়ের নিচের অংশ কেটে রক্ত বের হচ্ছিল। বনানী অফিসের কাছে এসে ডাক্তারের চিকিৎসা নিলাম। প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করছি আর মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি জীবন রক্ষার জন্য। আল্লাহ তুমি শোকতপ্ত পরিবারের ধৈর্য দান করুন। আমিন।”

যুগশঙ্খ