ঢাকা, বাংলাদেশ

ব্রাসেলসে পিসিএ চুক্তির প্রাথমিক সই করলো বাংলাদেশ-ইইউ

প্রকাশিত :

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে অংশীদারত্ব ও সহযোগিতা চুক্তির (পিসিএ) প্রাথমিক সই হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে ব্রাসেলসে এই চুক্তি সই হয়। বাংলাদেশের পক্ষে সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম ) ড. মু. নজরুল ইসলাম এবং ইইউ’র পক্ষে ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এশিয়া অ্যান্ড প্যাসিফিক) পাওলা পাম্পালনি চুক্তিতে সই করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ইউরোপিয়ান কমিশনের হাই রিপ্রেজেনটেটিভ কাজা কাল্লাস এসময় উপস্থিত ছিলেন।


পিসিএ স্বাক্ষরিত হলে বাংলাদেশ-ইইউ কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কের জন্য আইনি ও রাজনৈতিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। এটি মানবাধিকার ও সুশাসন থেকে শুরু করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, পরিবেশগত টেকসই ও জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা, জ্বালানি, পরিবহন ও বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনসহ বিভিন্ন নীতিগত ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারে সহায়তা করবে। তাছাড়া বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে পিসিএ স্বাক্ষর করা প্রথম দক্ষিণ এশিয়ার দেশ হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার সময় এই চুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে।

এই পিসিএ চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালের নভেম্বর ঢাকায় বাংলাদেশ এবং ইইউ’র মধ্যে বৈঠকের মাধ্যমে। এরপর থেকে দুই পক্ষ ঢাকা ও ব্রাসেলসে শারীরিক ও ভার্চুয়ালি পাঁচ দফা আলোচনা ও বেশ কয়েকটি কারিগরি বৈঠকে অংশ নেয়। পঞ্চম দফায় বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কিছু বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে আইনি ও বিচার বিভাগীয় সহযোগিতা, মেধাস্বত্ব অধিকার, জ্বালানি সহযোগিতা, মৎস্যচাষ, জলজ চাষ ও মহাসাগর প্রশাসন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, মানবাধিকার, শুল্ক সহযোগিতা ইত্যাদি।

চুক্তি সইয়ের আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ব্রাসেলসে কাজা কালাসের সঙ্গে একটি ফলপ্রসূ বৈঠক করেছেন। আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, ইন্দো-প্যাসিফিক সহযোগিতা, অভিবাসন, দক্ষতা উন্নয়ন, শ্রমের মান এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতাসহ বিস্তৃত ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়।

উভয় পক্ষ বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত উন্নয়ন পরবর্তী উত্তরণ, অগ্রাধিকারমূলক বাজার প্রবেশাধিকারের গুরুত্ব এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি (আইপিএ) নিয়ে আলোচনা শুরু করার বিষয়টি তুলে ধরেন। তারা নতুন সই করা বাংলাদেশ-ইইউ পার্টনারশিপ অ্যান্ড কো-অপারেশন এগ্রিমেন্টকে (পিসিএ) একটি ভবিষ্যতমুখী অংশীদারিত্বের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে স্বাগত জানান।

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

যুগশঙ্খ